রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখতে কোন কৌশল কার্যকর? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বদলে গিয়েছে জীবনযাপন। খাদ্যাভ্যাস থেকে যাপনের বদলে নিঃশব্দেই হানা দিচ্ছে ডায়াবিটিস। ওজন বৃদ্ধি, শরীরচর্চার অভাবে ক্রমশই বাড়ছে টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি। এই অসুখে শরীরে ইনসুলিন তৈরি হলেও, হরমোনটি সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়াবিটিস অনেক সময় চিহ্নিত হতেই দেরি হয়ে যায়। ডায়াবিটিস হওয়ার আগেও একটি পর্ব থাকে। তাকে বলে প্রিডায়াবিটিস। তা থেকে ডায়াবিটিস কখন, কী ভাবে হয়, তা সহজে টের পাওয়া যায় না। কারণ উপসর্গগুলি সব সময় প্রকট হয় না।
রক্তে কখন শর্করা বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলছে আগাম বুঝতে না পারলেও, সেই ঘটনা যাতে না ঘটে, তা কিন্তু নিশ্চিত করা যায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, দৈনন্দিন যাপনে সামান্য বদলেই রক্তে শর্করা বশে রাখা যায়। ডায়াবিটিস থাক বা না থাক, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া ভাল লক্ষণ নয়। তা বশে রাখতে খাওয়ার পরে মেনে চলুন তিন নিয়ম —
১। খাওয়ার পরে খান কম রসালো ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। খাবারেও থাকুক এমন পদ, যাতে ফাইবার রয়েছে। ভাত বা রুটির সঙ্গে পেঁয়াজ, শসা, টম্যাটো, গাজর, ধনেপাতা দিয়ে তৈরি স্যালাড খাওয়ার চল নতুন নয়। এর কার্যকারিতাও অনেক। কারণ, স্যালাডে থাকা সব্জির ফাইবার রক্তে শর্করার আচমকা বেড়ে যাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফাইবার কাজ করে ছাঁকনির মতো। ভাত-রুটি, ডালের মতো খাবারে থাকা কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তা যাতে না হয় তাই স্যালাড খাওয়ার দরকার।
২। খাওয়ার খানিক পরে মিনিট দশেক হাঁটাহাটি করুন। জোরে হাঁটা নয়, পায়চারি। রক্তে শর্করা বশে রাখতে হলে এই কৌশলটি অত্যন্ত কার্যকর। হাঁটাহাটির জন্য পেশির শক্তির দরকার হয়। ফলে, খাবারের কাবোহাইড্রেট থেকে যে শর্করা মেলে, তা খরচ হয়ে যায়, জমতে পারে না। রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বেড়ে যায় না।
৩। খাওয়ার খানিক পরে জল খাওয়া জরুরি। শারীরবৃত্তীয় কাজগুলি সঠিক ভাবে সম্পাদনের জন্য জলের জোগান থাকা প্রয়োজন। খাবার পরিপাকের সময় যাতে জলের অভাব না হয় তা দেখতে হবে। তা ছাড়া, জল খেলে কিডনিও ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে। রক্ত থেকে শর্করা ছেঁকে মূত্রের মাধ্যমে বার করে দেয়।
ডায়াবিটিসের চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, পরিমিত খাদ্যগ্রহণ, নিয়ম করে শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখতে সাহায্য করে।