ছবি: সংগৃহীত।
শরীরের ‘পাওয়ার হাউস’ বলা হয় লিভার বা যকৃৎকে। আর এই লিভারই রোজ রোজ একটু একটু করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে। ফাস্টফুড, তেলমশলাদার খাবার খাওয়ার ফলে এবং জল না খাওয়ার কারণে লিভারে টক্সিন বা বিষ জমা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ হতে পারে। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে লিভার পরিষ্কার রাখাও যেতে পারে। এ ব্যাপারে ওষুধের মতো কাজ করে পাঁচটি খাবার।
১. রসুন
রসুনে থাকা সালফার লিভারের এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে, যা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যালিসিন ও সেলেনিয়াম লিভার পরিষ্কার রাখে।
খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১-২ কোয়া কাঁচা রসুন চিবিয়ে বা হালকা গরম জলের সঙ্গে খান।
২. হলুদ
হলুদ লিভারের চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে এবং লিভারের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। এর ‘কারকিউমিন’ উপাদানটি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে পরিচিত।
খাওয়ার নিয়ম: রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধের সঙ্গে আধ চা-চামচ হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন।
৩. গ্রিন টি
গ্রিন টি-তে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট (ক্যাটেচিন) থাকে, যা লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং অতিরিক্ত মেদ জমতে বাধা দেয়।
খাওয়ার নিয়ম: দিনে অন্তত দু’বার (সকালে ও বিকেলে) চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করার অভ্যাস করুন।
৪. লেবু ও ভিটামিন সি যুক্ত ফল
আমলকি, পেয়ারা, লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এগুলি লিভারকে বিষমুক্ত করার অন্যতম সহজ উপায়।
খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম জলে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন বা খালি পেটে আমলকি খান একটি। অথবা প্রতি দিন প্রাতরাশের এক ঘণ্টা পরে বা মধ্যাহ্ণ ভোজের এক ঘণ্টা আগে একটি করে পেয়ারা খান।
৫. সবুজ শাকসবজি
পালং শাক, ব্রকলি বা করলার মতো সবুজ শাকসবজি রক্ত থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ শুষে নিতে সক্ষম। এগুলি লিভারের পিত্তরস নিঃসরণেও সহায়তা করে।
খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিনের দুপুরের খাবারে সেদ্ধ বা অল্প তেলে রান্না করা সবুজ শাকসবজি রাখুন।
আর যা খেয়াল রাখবেন
লিভার সুস্থ রাখতে প্রচুর জল পান করুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন। যদি আগে থেকেই কোনও গুরুতর লিভারের সমস্যা থাকে, তবে যেকোনও খাবার নতুন করে ডায়েটে রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।