নিজেই পরীক্ষা করে জানুন আপনার হার্ট কেমন আছে, সময় লাগবে মাত্র ৪০ সেকেন্ড। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আজকের সময়ে হৃদ্রোগ একটি অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হার্ট অ্যাটাক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্র্যাকশন’ রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণ। ঠিকঠাক সময়ে সমস্যা ধরা না গেলে বা চিকিৎসা শুরু করা না গেলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর বেঁচে ফেরার আশা কম থাকে। হার্ট কেমন আছে তা জানতে ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রাম-সহ আরও একগুচ্ছ পরীক্ষা করাতে বলেন চিকিৎসকেরা। সে সব সঠিক সময়ে করিয়ে নেওয়াই ভাল। তবে যদি নিজেই বুঝতে হয় যে হার্টের হাল কেমন, তার সহজ উপায় আছে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে কি না, তা জানতে বাড়িতে সহজ পরীক্ষা করে নিন।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের কিছু পরীক্ষার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে সহজেই সেই পরীক্ষাগুলি করে দেখে নিতে পারেন, হার্টের স্বাস্থ্য ঠিক কেমন।
সিঁড়ি পরীক্ষা
ইউরোপীয় সোসাইটি অফ কার্ডিয়োলজির গবেষকেরাও এই পরীক্ষাটিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এতে সময় লাগবে ৪০-৬০ সেকেন্ড। পরীক্ষাটিকে বলা হয় ‘স্টেয়ার ক্লাইম্ব টেস্ট’। আপনাকে শুধু চার ধাপ সিঁড়ি ভাঙতে হবে। চার ধাপ মানে হিসেব মতো ৬০টি সিঁড়ি। যদি ৪০ সেকেন্ড বা তার কম সময়ে এটি সম্পন্ন করতে পারেন, তা হলে বুঝতে হবে আপনার হার্টে কোনও গোলমাল নেই।
পরীক্ষার পরে পর্যবেক্ষণ: ৬০টি সিঁড়ি ভাঙার পরে যদি দেখেন অল্প হাঁপিয়ে গিয়েছেন, তা হলে স্বাভাবিক।
বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট ও বুকে ভারী পাথর চেপে থাকার মতো অনুভূতি যদি হয়, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
৬০টি সিঁড়ি ভাঙতে যদি ১ মিনিটের বেশি সময় লাগে, তা হলেও বুঝতে হবে আপনি সম্পূর্ণ ফিট নন। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি।
চেয়ার টেস্ট
অনেক চিকিৎসকই এই পরীক্ষাটির কথা বলেন। একে বলে ‘সিট টু স্ট্যান্ড টেস্ট’। হৃদ্গতির হার কেমন, হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে গিয়েছে কি না, তা বোঝা যেতে পারে এই পরীক্ষাটিতে। হাত দু’টি বুকের উপর আড়াআড়ি ভাবে রেখে, চেয়ারে একবার বসতে হবে ও উঠতে হবে। কোনও কিছুর সাহায্য নেওয়া যাবে না। ওঠা ও বসার সময়ে চেয়ারের হাতলও ধরতে পারবেন না। এ ভাবে ৪০ সেকেন্ড ধরে একটি করে যেতে হবে।
পরীক্ষার পরে পর্যবেক্ষণ: ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অন্তত ১৫ বারের বেশি এটি করা উচিত। যদি কেউ এটি করতে গিয়ে দ্রুত হাঁপিয়ে যান বা বুক ধড়ফড় করে, তবে তা হার্টের দুর্বলতার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
ওঠা-বসা করতে গিয়ে যদি দেখেন প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, দম নিতে পারছেন না, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা সম্প্রতি বেশ বেড়েছে। ইদানীং হার্টের সমস্যা নিয়ে যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই কমবয়সি। জিনগত কারণে বা জন্মগত ভাবে হার্টের অসুখ রয়েছে এমন মানুষ ছাড়া যাঁদের পরে কোনও কারণে হার্টের অসুখ ধরছে, তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের তরুণ-তরুণী। তাই এই পরীক্ষা দু’টি বাড়িতে করে হার্টের স্বাস্থ্য কেমন, তা যাচাই করে নিতে পারেন।