ছবি : সংগৃহীত।
পায়ের চেয়ে দু’কদম এগিয়ে থাকছে পেট। বেল্টের শেষ ঘরাও টাইট মনে হচ্ছে কখনও সখনও। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে ভাল লাগছে না একেবারেই। কিন্তু চেষ্টা করে যে ভুঁড়ি কমাবেন, তা-ও হচ্ছে না। কারণ, পেটের মেদ নাছোড়বান্দা। ডায়েট, হাঁটাহাঁটি, মিষ্টি বন্ধ করেও লাভ হচ্ছে না। এমন সমস্যায় ভোগা বহু মানুষই পেটের মেদ কমানোর ইচ্ছেয় ইতি টেনেছেন। ভারী কোমর-পেটের সমস্যাকে জীবনের অঙ্গ বলে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু চোখ বন্ধ করে থাকলেই কি সমস্যা উধাও হয়ে যায়? বরং সমস্যা কোনও কোনও ক্ষেত্রে বেড়ে আরও বিপদ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পেটে মেদবৃদ্ধির একটা বড় কারণ হল অম্বল, গ্যাস, হজমের সমস্যা। এ ছাড়া ব্যস্ত জীবনে খাওয়াদাওয়ার কোনও নিয়ম না থাকা, যখন তখন যা ইচ্ছে তা-ই খেয়ে ফেলার কারণেও পেটে জমতে পারে অতিরিক্ত মেদ। আবার অনেক ক্ষেত্রে মেদ জমার ফলেই তৈরি হতে পারে বা বাড়তে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। সোজা কথায়, শরীরে, বিশেষ করে পেট এবং কোমরের মেদবৃদ্ধি সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। কিন্তু পেটের নাছোড় মেদ কমাবেন কী ভাবে?
দিল্লির এক চিকিৎসক, গ্যাসট্রোএন্টেরোলজিস্ট শুভম বাৎস্য জনাচ্ছেন, পেটের নাছোড় চর্বি, এমনকি গ্যাসের কারণে পেট ফাঁপার সমস্যাও কমাতে পারে ছাতু দিয়ে তৈরি একটি পানীয়। তিনি বলছেন, ‘‘নিয়মিত সকালে খালি পেটে ওই পানীয় খেলে পেটের মেদবৃদ্ধির সমস্যা দূর হতে পারে ।’’
কী ভাবে বানাতে হবে ওই পানীয়?
ওই পানীয় বানাতে দরকার লাগবে— ১ টেবিল চামচ ছাতু, ১ গ্লাস বা ৩০০ মিলিলিটার ঈষদুষ্ণ জল, এক চিমটে দারচিনির গুঁড়ো এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস।
প্রণালী: ঈষদুষ্ণ জলে ছাতু ভাবে গুলে নিন, যাতে কোনও ভাবে দলা পাকিয়ে না যায়। এর পরে তার মধ্যে দারচিনির গুঁড়ো এবং লেবুর রস মিশিয়ে গুলে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই খেয়ে নিন। কোনও রকম চিনি, গুড় বা মধু এর মধ্যে দেওয়া যাবে না।, সে ক্ষেত্রে ওই পানীয় যে উদ্দেশে খাচ্ছেন, তা পূরণ হবে না।
কেন এই ছাতুর শরবত পেটের মেদ কমানোর জন্য কার্যকরী?
১। চিকিৎসক শুভম বলেছেন, ‘‘এই পানীয় যদি সকালে খালি পেটে বা দিনের প্রথম খাবার হিসাবে খাওয়া হয়, তবে প্রথমত, তা পেট অনেক ক্ষণ ভরিয়ে রাখে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ ক্ষণ ধরে হজম হয় বলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়তে দেয় না। ফলে তা এটাসেটা খাওয়ার ইচ্ছেকে দমন করতে সাহায্য় করে।’’
২। রোগা হওয়ার জন্য বিশেষ করে পেটের বাড়তি চর্বি ঝরানোর জন্য সবার আগে জরুরি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ, রক্তে শর্করা আচমকা বাড়লে যখন তখন খাওয়ার ইচ্ছেও বাড়তে থাকে। যা পেটের মেদবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ছাতুর এই শরবতে থাকা দারচিনির গুঁড়ো ব্লাড সুগার বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৩। ছাতুতে থাকা প্রোটিন এবং ফাইবার শরীরকে ধীরে ধীরে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে শক্তির জোগান দিতে থাকে। যা বিপাকের হার ভাল রাখার জন্য দরকার। আর বিপাকের হার ভাল থাকলে পেটের মেদ জমার সমস্যাও কমে।
৪। ছাতুতে ফাইবার বেশি থাকায় একটি হজমের সমস্যা দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। ফলে গ্যাস এবং পেটফাঁপার সমস্যা দূরে থাকে। এ ছাড়া, দারচিনিও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে থাকা অ্য়ান্টি-অক্সিড্যান্ট অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রেখে পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করে।