SIR in West Bengal

জীবিত হয়েও ভোটার তালিকায় ‘মৃত’, মৃত্যুর শংসাপত্র চাইতে বিডিও আফিসে হাজির বধূ

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় আয়েশার নাম সঠিক ভাবেই ছিল। এস‌আইআরের নিয়ম মেনে তিনি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করেও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই চক্ষু চড়কগাছ আয়েশার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৩:০৮
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

দিব্যি সুস্থ শরীরে হাঁটাচলা করছেন। অথচ ভোটার তালিকায় তিনি ‘মৃত’। তাই মৃত্যুর শংসাপত্র চাইতে তিনি নিজেই হাজির হলেন বিডিও অফিসে। মুর্শিদাবাদের সুতি এলাকার ঘটনা।

Advertisement

সুতির ডিহিগ্রামের ৯২ নম্বর বুথের ভোটার আয়েশা খাতুন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ডিহিগ্রামে হলেও বাপেরবাড়ি কাশিমনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় আয়েশার নাম সঠিক ভাবেই ছিল। এস‌আইআরের নিয়ম মেনে তিনি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করেও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই চক্ষু চড়কগাছ আয়েশার। দেখা যায় তাঁর নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ লেখা।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, সরকারি নথিতে তাঁকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সোমবার বিডিও অফিসে গিয়ে হাজির হন আয়েশা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আমি যদি জীবিত থাকি, তবে তালিকায় কেন আমাকে মৃত দেখানো হল? যদি আপনাদের খাতায় আমি মারা গিয়ে থাকি, তবে আমাকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হোক।’’

Advertisement

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পঞ্চায়েত সদস্য মইদুলও। তিনি বলেন, ‘‘বিডিও সাহেবকে সরাসরি বলেছি আপনারা সরকারিভাবে এঁকে মেরে ফেলেছেন। এটা শুধু লজ্জার নয়, সাংবিধানিক অধিকার নিয়েও ছিনিমিনি খেলা।’’ তাঁর আরও দাবি, ওই নির্দিষ্ট বুথের ৬২৮ জনের নামে শুনানির নোটিস এসেছিল, যার মধ্যে চূড়ান্ত তালিকায় মাত্র ৩ জনের নাম উঠেছে। বাকি ৬২৫ জনকে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে।

বিডিও অফিস থেকে অবশ্য এই ত্রুটি সংশোধনের জন্য জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আয়েশা ও তাঁর পরিবার আইনি পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ভোটার তালিকায় নাম না ফিরলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement