করোনা তো টেই, হাজার রকম ভাইরাসের মোকাবিলা করার টিকা তৈরি হল। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
করোনাতেই শেষ নয়। এমন আরও অতিমারি ভবিষ্যতে হানা দিতে পারে, এই মর্মে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) তো স্পষ্ট বলেই দিয়েছে, করোনার চেয়েও মারাত্মক ‘ডিজ়িজ় এক্স’ আছড়ে পড়তে পারে বিশ্বে। আগামী দিনে কোন কোন রোগ অতিমারির কারণ হতে পারে, তার একটি তালিকাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেখানে ইবোলা, জ়িকার মতো ভাইরাসের নামও আছে। এমন সব ভয়াবহ ভাইরাসের মোকাবিলা করতে হলে আগে থেকে প্রস্তুতি দরকার। করোনার মতো বিপদ এলে আগে থেকে যাতে প্রস্তুত থাকা যায়, সে জন্যই সর্বগুণসম্পন্ন এক টিকা তৈরি করে ফেলেছেন ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। নাম দিয়েছেন ‘সুপার-ভ্যাকসিন’। এই টিকা যে কোনও রকম ভাইরাসকে জব্দ করতে পারবে বলেই দাবি করা হয়েছে।
কী এই ‘সুপার-ভ্যাকসিন’?
করোনার টিকা হোক বা ইনফ্লুয়েঞ্জার, এখনও পর্যন্ত যে সব টিকা তৈরি হয়েছে, তা নির্দিষ্ট কোনও রোগকে প্রতিরোধ করার জন্যই। যেমন, ফ্লু-এর টিকার কাজ হল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের যে কোনও প্রজাতিকে রুখে দেওয়া, নিউমোনিয়ার টিকা আবার স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। কাজেই, প্রতিটি রোগের জন্য আলাদা টিকা রয়েছে। এমন কোনও টিকা নেই, যা একসঙ্গে যে কোনও ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়াকে প্রতিরোধ করতে পারে। তেমনই টিকা তৈরি করেছেন কেমব্রিজের গবেষকেরা। এই টিকা কোনও একক ভাইরাসের জন্য নয়, বরং যে কোনও ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ রুখে দিতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে।
টিকা তৈরির পদ্ধতিও আলাদা। সাধারণত, যে ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে হয়, তার শরীর থেকে নেওয়া অংশ দিয়েই টিকা তৈরি হয়। কিন্ত এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জিনগত বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করেছেন। সে কাজে সাহায্য করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বিশ্বে যত রকম ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া রয়েছে এবং তাদের নানা প্রজাতি-উপপ্রজাতি রয়েছে, সবেরই জেনেটিক কোড (ডিএনএ ও আরএনএ-র তথ্য) সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জটিল জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে গবেষণাগারে তৈরি হয়েছে ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’, যা দিয়েই টিকা তৈরি হয়েছে। টিকাকে এতটাই শক্তিশালী করে তৈরি করা হয়েছে যে, তা যে কোনও ভাইরাসকে চিনে ফেলতে পারবে। সেই ভাইরাস যদি রূপবদল করে, তা হলেও টিকা তাকে প্রতিরোধ করতে পারবে।
কেমব্রিজের এই টিকা নিয়ে গবেষণা করছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরাও। মানুষের শরীরে তার প্রয়োগ চলছে। অক্সফোর্ডের ওই গবেষক দলের ডিরেক্টর অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড জানিয়েছেন, এখনও অবধি যত জনের শরীরে টিকাটি প্রয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের সকলেরই শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তেমন ভাবে দেখা যায়নি। সব ক্ষেত্রে ফলাফল যদি আশানুরূপ হয়, তা হলে টিকাটি আগামী দিনে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে।