Humayun Kabir

তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন হুমায়ূনের জামাই, মাদক মামলায় ডাক পাওয়ার পরেই রাজনীতির ময়দানে ছেলে ও বাবা

মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দলে যে কেউ যোগ দিলে তাকে শক্তি বৃদ্ধি বলে। রায়হান তৃণমূলে যোগ দিলে অবশ্যই শক্তি বৃদ্ধি হবে। সে কার আত্মীয় সেটা বড় বিষয় নয়।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ০২:৫৭
Share:

রায়হান আলি। — ফাইল চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। এক প্রকার ‘ভাঙন’ ধরল ভরতপুরের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের পরিবারে। ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন হুমায়ুনের জামাই রায়হান আলি। শুধু রায়হানই নন, তাঁর বাবা শরিফুল ইসলামও শাসকদলের পতাকা হাতে তুলে নিতে যাচ্ছেন বলে মঙ্গলবার জানা গিয়েছে।

Advertisement

তৃণমূল থেকে নিলম্বিত হওয়ার পরেই মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর আলাদা দল তৈরি করেছেন। দলের নাম জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি) দেওয়া হলেও নির্বাচন কমিশনে জেইউপি নামে অন্য একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত থাকার কারণে সেই নাম বদলাতে হবে হুমায়ুনকে। এই পরিস্থিতিতে তিনি ভেবেছেন তাঁর দলের নামের আগে ‘আম’ শব্দ যোগ করার কথা। তা হলে দলের নাম হবে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)। তবু বিধানসভা নির্বাচনে নিজের দল নিয়ে লড়াই করতে অনড় তিনি।

পুরনো মাদক মামলায় ইতিমধ্যেই বার কয়েক ডেকে পাঠানো হয়েছে তাঁর জামাই ও জামাইয়ের বাবাকে। রাজ্য সরকার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ ও ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে যোগদান করানোর অভিযোগ আগেই এনেছিলেন হুমায়ুন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর জামাই ও জামাইয়ের বাবার তৃণমূলে যোগদানের ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মঙ্গলবার রায়হান নিজেই জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখছেন। তাঁর গন্তব্য হবে তৃণমূল।

Advertisement

সূত্রের খবর, দোল মিটে গেলেই রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের উত্তরীয় পরবেন রায়হান ও তাঁর বাবা। গুঞ্জন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লালগোলা কেন্দ্র থেকে শাসকদলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়েও এগিয়ে আছেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে হুমায়ুন কন্যা নাজমা সুলতানার সঙ্গে বিয়ে হয় রায়হানের।

আগে হুমায়ুন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর জামাইকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে দলে টানার চেষ্টা করছে তৃণমূল। এমনকি, লালগোলা থেকে রায়হানকে প্রার্থী করার টোপ দেওয়া হয়েছে বলেও সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। তবে মঙ্গলবার রায়হানের বক্তব্যে সেই অভিযোগের তেমন প্রতিফলন মেলেনি।

রায়হান বলেন, ‘‘বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আটকাতে একমাত্র বিকল্প তৃণমূল। বিজেপি যে হেতু প্রধান শত্রু তাই তৃণমূলেই যোগদানের সিদ্ধান্ত।’’ তাঁর এই সিদ্ধান্তের পরে কি পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হতে পারে? এই প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, ‘‘ব্যক্তি জীবনের সঙ্গে রাজনৈতিক জীবনের কোনও সম্পর্ক নেই। পারিবারিক সম্পর্ক ব্যাহত হবে না।’’ জামাইয়ের তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে হুমায়ুনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আগে যোগ দিক তারপরে মন্তব্য করব। তবে দীর্ঘ দিন ধরে ওদের পরিবারের উপরে পুলিশ দিয়ে চাপ তৈরি করা হচ্ছিল।’’

এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দলে যে কেউ যোগ দিলে তাকে শক্তি বৃদ্ধি বলে। রায়হান তৃণমূলে যোগ দিলে অবশ্যই শক্তি বৃদ্ধি হবে। সে কার আত্মীয় সেটা বড় বিষয় নয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement