Banana Vs Milk Shake

কলা না ফলের মিল্কশেক, কোনটি পেটের জন্য ভাল, শিশুদের জন্য বাছবেন কোনটি?

সন্তানকে কোন ফল খাওয়াবেন, কোন পানীয় দেবেন, তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে। কেউ বলেন এটা ভাল, কারও পরামর্শ অন্য। তবে পেটের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কলা না কলা-দুধের শেক— কোনটি ভাল হবে, পুষ্টিবিদেরা কী বলেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২১
Share:

কলা না কি কলার মিল্কশেক, খুদের স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি ভাল? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলা এমন একটি ফল, যা ছোট থেকে বড় সকলেই খেতে পারেন। নরম, মিষ্টি ফলটি একেবারে ছোটদের যেমন চটকে খাইয়ে দেওয়া যায়, তেমনই বয়স্কেরাও এটি মেখে বা শুধুই খেতে পারেন।

Advertisement

একটি মাঝারি আকারের কলায় ১০৫-১১০ কিলোক্যালোরি শক্তি মেলে।এতে থাকে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন, প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, অল্প মাত্রায় ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। প্রাতরাশ হোক বা স্মুদি কিংবা মিল্কশেক, সবেতেই চট করে এই ফল জুড়ে দেওয়া যায়।

কিন্তু যদি পেটের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখতে হয়, তা হলে কলা খাওয়া ভাল না কি, দুধ-কলার শেক? খুদের জন্যই বা কোনটি উপযোগী?

Advertisement

কলা শুধু পুষ্টিগুণে ঠাসা নয়, ফাইবার থাকায় ফলটি হজমেও সহায়ক। তা ছাড়া কলা যদি ভাল করে চিবিয়ে খাওয়া যায়, তার সঙ্গে মিশে যায় জিভে থাকা লালাও। যা পাচকরস নিঃসরণে সাহায্য করে। ফলে পাকা কলা খেলে হজমে কোনও অসুবিধা হয় না। পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, শুধু ছোট নয়, যে কোনও বয়সিদের জন্যই কলা ভাল। এটি এমন একটি ফল, যা আন্ত্রিকেও খাওয়া যায় আবার কোষ্ঠের সমস্যাও কমিয়ে, পেট পরিষ্কারে সাহায্য করে।

কিন্তু দুধ-কলা একসঙ্গে খেলে কি হজম করা ততটাই সহজ হয়? না কি তা পেটের জন্য অতটাও ভাল নয়? পুষ্টিবিদ অনন্যা বলছেন, ‘‘বিষয়টি নির্ভর করছে শিশুর স্বাস্থ্যের উপর। যে কোনও ডায়েট সকলের জন্য একই ভাবে প্রযোজ্য নয়। যদি শিশুর দুধ হজমে কোনও সমস্যা না থাকে, তা হলে শুধু কলা বা দুধের চেয়ে দুধ-কলার শেক তুলনামূক ভাবে বেশি ভাল বিকল্প। তা শুধু পেটের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দিক দিয়েও ভাল।’’

পেটের স্বাস্থ্য ভাল বা খারাপ থাকবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করে দৈনন্দিন খাবার বাছাইয়ের উপরেই। যে সমস্ত খাবার অন্ত্রের ভাল বা উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধিতে সাহায্য করে, সেগুলি অন্ত্র-বান্ধব খাবার, পেটের জন্য ভাল। আবার পেটের জন্য ফাইবার জাতীয় খাবারও জরুরি। তা শুধু হজমেই সহায়ক নয়, পেট পরিষ্কারেও সাহায্য করে। কোষ্ঠ নরম করে।

কলা এমন একটি ফল, যার মধ্যে পুষ্টিকর উপাদান তো আছেই, উপরন্তু এটি সুস্বাদুও। নরম বলে ছোট থেকে বয়স্কেরা সহজে খেতে পারেন। খুব সহজে এই ফল হজম হয়।

দুধ হজমে সমস্যা থাকলে কোনটি ভাল?

ল্যাক্টোজ় নামক শর্করা থাকে দুধে। সেই ল্যাক্টোজ় হজমের জন্য যে উৎসেচক দরকার হয়, তা মানবদেহে সব সময় পাওয়া যায় না। অনেক শিশুরই তাই দুধের ল্যাক্টোজ় হজমে সমস্যা হয়। কারও আবার দুধে কেসিন নামক প্রোটিন হজমেও সমস্যা হয়। প্রাণিজ দুধ সহ্য না হলে, তা খাবার প্রশ্নই ওঠে না। সে ক্ষেত্রে শুধু কলা ভাল।

বিকল্প কী?

কলায় পটাশিয়াম প্রচুর থাকলেও, এতে ক্যালশিয়াম বা প্রোটিন নেই। কিন্তু দুধে সেই উপাদান আছে। নানা রকম ভিটামিন এবং খনিজ থাকায় দুধকে সুষম খাবারের তালিকায় ফেলা হয়। আবার সর্দি-কাশি বা শ্লেষ্মার ধাত থাকলে কলা খেলে সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রাণিজ দুধের বিকল্প হতে পারে উদ্ভিজ্জ দুধ। ওট্‌স, কাঠবাদাম, সয়ামিল্ক বিকল্প হিসাবে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক বা বয়স্কদের মধ্যে যাঁদের দুধ হজমে সমস্যা হয়, তাঁরাও প্যাকেটজাত দুধ বা গরুর দুধের বদলে উদ্ভিজ্জ দুধ খেতে পারেন।

কলা না মিল্কশেক, এগিয়ে কে?

পুষ্টিগুণ শুধু নয়, পেটের স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও দুধ-কলার শেক বা মিল্কশেককেই এগিয়ে রাখছেন পুষ্টিবিদেরা। পুষ্টিবিদ অনন্যা এবং শম্পা দু’জনেই মানছেন, পুষ্টিগুণের বিচার করলে শিশুর জন্য মিল্কশেক নিশ্চিত ভাবে অনেক ভাল খাবার। তার কারণ, শিশুদের বার বার করে খাওয়ানো ঝক্কির। সে ক্ষেত্রে মিল্কশেক দেওয়া মানে, তাদের জন্য সম্পূর্ণ একটি খাবার। তা ছাড়া, অনন্যার পরামর্শ, বাজারচলতি কৃত্রিম স্বাদ-গন্ধের নানা রকম পাউডার দুধে মিশিয়ে খাওয়ানোর বদলে মরসুমি কোনও ফল জুড়লে একই খাবার থেকে শিশু ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, সবটাই পাবে। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করাও শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে না। তা ছাড়া, শিশু ফলের আসল স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

শম্পা বলছেন, ‘‘শিশুর কলা পছন্দ না হলে তার বদলে আপেল, স্ট্রবেরি, আম, পেঁপে— এমন অনেক ফল দিয়েই শেক বানিয়ে দেওয়া যায়। দুধ যাদের সহ্য হয়, তাদের সমস্যা নেই। তবে দুধ হজমে সমস্যা থাকলে, উদ্ভিজ্জ দুধে ফল মিশিয়ে শেক বানিয়ে দেওয়া যেতেই পারে।’’

কেন এগিয়ে মিল্কশেক?

কলার চেয়ে মিল্কশেক শুধু অন্ত্রের স্বাস্থ্যবিচারে নয়, এগিয়ে অনেক দিক থেকেই। ফল এবং দুধের মিশ্রণে পুষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়। দুধের ক্যালশিয়াম বাড়ন্ত শিশুর হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া, ফলের ফাইবার কোষ্ঠ পরিষ্কারেও সহায়ক। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও মিল্কশেক ভাল। কারণ, ফলের ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement