ভোটের দিনে সুস্থ থাকুন, হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে কী করণীয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সকাল সকাল ভোট দিতে যাওয়ার কথা ভাবছেন অনেকেই। লম্বা লাইনে দাঁড়াতেও হবে অনেকক্ষণ। এখন গরম যে ভাবে বাড়ছে, তাতে সকাল ৭টার পর থেকেই রোদের তেজ খুব চড়া। আর দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে শরীর খারাপ হতেই পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি। তা ছাড়া এখন অনেকেই জ্বর ও পেটের সমস্যায় ভুগছেন। এমন অবস্থায় রোদে তেতেপুড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাই বেশি। তাই গরমে সুস্থ থাকতে ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে অবশ্যই কিছু নিয়ম মানতে হবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ভারী খাবার খেয়ে না যাওয়াই ভাল। বরং হালকা ডিটক্স পানীয় বা ইলেকট্রোলাইট পানীয় খেয়েই বেরোন। সঙ্গে জলের বোতল ও ডিটক্স পানীয় রাখতে পারেন।
গরমে শরীরে জলের ঘাটতি হচ্ছে। জলশূন্যতার কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। তাই এমন কিছু খেতে হবে যা শরীরে জল ও খনিজ উপাদানগুলির ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। রোদে বেরোনোর আগে তাই ইলেকট্রোলাইট পানীয় খেয়ে যাওয়াই সবচেয়ে ভাল উপায় হতে পারে। এ জন্য শুধু ওআরএস নয়, আরও কিছু পানীয় বানিয়ে নিন বাড়িতেই।
রোদে বেরোনোর আগে ইলেকট্রোলাইট পানীয় খেয়ে যাওয়াই সবচেয়ে ভাল। ছবি: ফ্রিপিক।
ডাবের জলের ইলেকট্রোলাইট মিক্স
ডাবের জলে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে। ডাবের জলের সঙ্গে অর্ধেকটা পাতিলেবু ও এক চিমটে সৈন্ধব লবণ বা পিঙ্ক সল্ট মিশিয়ে খেলে তা এনার্জি ড্রিঙ্কের কাজ করবে। ভারী ব্যায়ামের পরে শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে অনেকটাই খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। সেই সময়ে বাজারচলতি এনার্জি ড্রিঙ্কের বদলে এই পানীয় খেলে উপকার বেশি হবে।
আদার ডিটক্স পানীয়
আদা দিয়ে চা তো খান। আদা দিয়ে ডিটক্সও বানানো যায় যা ডিহাইড্রেশন ঠেকাতে বেশ উপযোগী। সকালে অনেকেই মৌরী বা মেথি ভেজানো জল পান করেন। সে জায়গায় আদার ডিটক্স খেয়ে দেখতে পারেন। বিশেষ করে, রোদে বেরোনোর আগে তা খেলে উপকার বেশি হবে। এটি বানাতে ১ লিটার জল একটি পাত্রে ঢেলে তাতে আদার টুকরো বা কুরে নেওয়া আদা দিয়ে দিন। এই ভাবেই রেখে দিন অন্তত ১ ঘণ্টা। চাইলে ২-৩ ঘণ্টাও রাখতে পারেন। ঘরের তাপমাত্রাতেই রাখুন। তবে চাইলে ফ্রিজেও রাখতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের পরে খাওয়ার আগে ওর মধ্যে মিশিয়ে দিন লেবুর রস এবং কুচনো পুদিনাপাতা। চাইলে মধু বা গুড় মিশিয়েও খেতে পারেন।
শরীর ঠান্ডা রাখবে ডিটক্স পানীয়। ছবি: ফ্রিপিক।
ডাবের জল ও ফলের রসের ইলেকট্রোলাইট
দু’কাপ সাধারণ জল আর এক কাপ ডাবের জল মিশিয়ে নিন আগে। এর পর তাতে এক চামচ পাতিলেবুর রস, আধ কাপ মুসাম্বির রস, সৈন্ধব লবণ আধ চামচ, মধু ১ থেকে ২ চামচ মিশিয়ে দিন। উপর থেকে পুদিনাপাতা ছড়িয়ে দিন।
তরমুজ-ডাবের শরবত
দু’কাপের মতো তরমুজের টুকরো নিন। সঙ্গে লাগবে ১ চামচ পাতিলেবুর রস, ১ কাপ ডাবের জল, একমুঠো পুদিনাপাতা। সমস্ত উপকরণ ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এ বার ছেঁকে নিয়ে তাতে বিটনুন, পুদিনাপাতা এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে শরবত।
তরমুজ-ডাবের শরবত। ছবি: ফ্রিপিক।
কাঁচা আমের শরবত
একটি মিক্সারে কাঁচামিঠে আমের টুকরো, পরিমাণ মতো চিনি, পুদিনাপাতা, একটা কাঁচালঙ্কা, বিটনুন, চাটমশলা আর জল দিয়ে একটি মিশ্রণ করে নিন। আম টক হলে চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। এ বার মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে বরফ, ভাজা জিরের গুঁড়ো আর পুদিনাপাতা ছড়িয়ে খেতে পারেন।
বেদানার মোহিতো
গ্লাসে পুদিনাপাতা ও লেবুর টুকরো নিয়ে হালকা করে থেঁতলে নিন। এ বার তাতে বিটনুন ও মধু মেশান। গ্লাসটি বরফকুচি দিয়ে ভরে দিন। শেষে উপর থেকে তাজা বেদানার রস ঢেলে ভাল করে মিশিয়ে খেতে পারেন।