Cancer Protein

একটি প্রোটিনের কারণেই ক্যানসারের এত বাড়বাড়ন্ত, খুঁজে পেয়ে জব্দ করার উপায় বার করলেন গবেষকেরা

ক্যানসার কোষকে আগলে রাখছে একটি প্রোটিন। বাঁচাচ্ছে ওষুধের কবল থেকেও। সেই প্রোটিনকেই খুঁজে বার করলেন গবেষকেরা। ক্যানসার নির্মূল করার উপায় কি তবে জানা গেল?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

ক্যানসারের বাড়বাড়ন্ত হবেই না, খলনায়ক প্রোটিনকে খুঁজে পেলেন গবেষকেরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শরীরের নানা কাজকর্মের জন্য তাকে দরকার। সে না থাকলেই বরং বিপদ। কোষের জন্ম, বেড়ে ওঠা, এমনকি তার ক্ষত সারানোর কাজেও সাহায্য করে সে। অথচ সেই প্রোটিনই যখন তার রূপ বদলে ফেলে, তখন সে মানবদেহের পক্ষে হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর। নানা ধরনের ক্যানসার কোষের জন্ম ও তাদের বাড়বৃদ্ধিতে সে হয়ে ওঠে অত্যন্ত সহায়ক। মানবদেহের সেই বিশেষ একটি প্রোটিন, যার নাম ‘টিএকে১’, তাকে বেঁধে ফেলে বা নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে ক্যানসার বাড়বৃদ্ধি বন্ধ করার পথ দেখালেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং অস্ট্রেলিয়ার অলিভিয়া নিউটন-জন ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ‘টিএকে১’ প্রোটিনটিই ক্যানসার কোষগুলিকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। সুকৌশলে তাদের আড়াল করে রাখে, যাতে ওষুধ ক্যানসার কোষ অবধি পৌঁছতে না পারে। প্রোটিনটি ক্যানসার কোষের চারধারে শক্তিশালী বর্ম তৈরি করে ফেলে। এমনকি এ-ও দেখা গিয়েছে, কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির সময়ে এই প্রোটিনটি ক্যানসার কোষগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তাদের বিভাজনেও সাহায্য করে। তাই শরীরের কোথাও ক্যানসার কোষের জন্ম হলে তা খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে গিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

‘টিএকে১’ প্রোটিনটিতে যত দিন না রাসায়নিক বদল (মিউটেশন) হচ্ছে, তত দিন সে ঠিক থাকে। কোষের ক্ষত মেরামতিতেও সাহায্য করে। কিন্তু যে মুহূর্ত থেকে তার ভিতরে বদল আসতে থাকে, তখন থেকেই সে সুস্থ কোষগুলির শত্রু হয়ে ওঠে। শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী টি-কোষের সঙ্গেও সমানে টক্কর দিতে পারে এই প্রোটিন। গবেষকেরা দেখেছেন, যখন ক্যানসার কোষের বিভাজন শুরু হয় তখন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধী কোষগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার মধ্যে একটি হল টি-কোষ, যারা ছুটে গিয়ে ক্যানসার কোষগুলিকে আক্রমণ করতে শুরু করে। কিন্তু এই প্রোটিনটি সে কাজে বাধা দেয়। উল্টে টি-কোষের সঙ্গে লড়াই করে ক্যানসার কোষগুলিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। তাই এই প্রোটিনকে জব্দ করতে পারলেই, ক্যানসারের বৃদ্ধি ধীর গতিতে হবে ও সহজেই চিকিৎসায় সেগুলিকে বিনষ্ট করা যাবে বলেই মত গবেষকদের।

Advertisement

‘টিএকে১’ প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য ইমিউনোথেরাপির আশ্রয় নিয়েছেন গবেষকেরা। তৈরি হচ্ছে ওষুধও। ‘সেল রিপোর্ট’ জার্নালে সেই খবর প্রকাশিতও হয়েছে। জানা গিয়েছে, এমন ওষুধ তৈরি হচ্ছে যা প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় তো করবেই, ক্যানসার কোষগুলিকেও ধ্বংস করবে। আপাতত ইঁদুরের উপর পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। মানুষের শরীরে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরেই এই ব্যাপারে বিশদ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement