যতই পছন্দ হোক, কড়াইশুঁটি কারা একেবারেই খাবেন না? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
সবুজ সব্জি সব সময়েই ডায়েটের তালিকায় প্রথমেই থাকবে। আর তা যদি প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর হয়, তা হলে তো কথাই নেই। শীত পড়তেই বাঙালির ঘরে ঘরে ফুলকপি ও কড়াইশুঁটি। প্রায় সব রান্নাতেই কড়াইশুঁটির আধিক্য রয়েছে। বাজার ছেয়ে গিয়েছে টাটকা কড়াইশুঁটিতে। প্রোটিন, ভিটামিন ও ফাইবারে সমৃদ্ধ সব্জিটি যতই পুষ্টিকর হোক না কেন, তা কিন্তু সকলের জন্য সমান উপকারী নয়। কারা কড়াইশুঁটি একেবারেই খাবেন না?
ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর কড়াইশুঁটি ওজন কমাতে পারে, হজমে সহায়ক। এর পলিফেনল নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। তবে কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে কড়াইশুঁটি এড়িয়ে চলাই ভাল।
কারা খাবেন না?
ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে
কড়াইশুঁটিতে 'পিউরিন' নামক উপাদান থাকে যা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই ইউরিক অ্যাসিড যাঁদের বেশি অথবা আর্থ্রাইটিসের সমস্যা রয়েছে, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণায় ভোগেন, তাঁরা কড়াইশুঁটি বেশি খাবেন না।
ক্রনিক কিডনির রোগ
কিডনির রোগীদের জন্য উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার অনেক সময় ক্ষতিকর হয়। কড়াইশুঁটিতে প্রচুর প্রোটিন থাকায় এটি কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই কিডনি বিকল হওয়া বা কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাবেন না।
গ্যাস-অম্বল
কাঁচা কড়াইশুঁটিতে থাকে লেকটিন ও ফাইটিক অ্যাসিড যা খাবারে থাকা ভিটামিন ও খনিজগুলির শোষণে বাধা দেয়। যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা আছে বা পেট ফাঁপা, গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের কড়াইশুঁটি বেশি না খাওয়াই ভাল।
অ্যালার্জির কারণে
কারও কারও ক্ষেত্রে মটরশুঁটি খেলে ত্বকে র্যাশ, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে তা কম জনেরই হয়।
রক্তাল্পতার সমস্যায়
কড়াইশুঁটিতে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড আয়রন ও জ়িঙ্কের শোষণে বাধা দেয়। তাই যাঁদের রক্তে হিমোগ্লোবিন কম বা রক্তাল্পতার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের রোজ কড়াইশুঁটি না খাওয়াই ভাল। খেতে হলে অল্প পরিমাণে খেতে হবে।