Dukan Diet

ঘি-মাখন, মাছ-মাংস-ডিম যত খুশি খান, তাতেই কমবে ওজন, নতুন বছরে রোগা হওয়ার নয়া মন্ত্র ডুকান ডায়েট

এক দিন-দু’দিন নয়, রোজ৷ পছন্দের মাছ, মাংস ডিম বা ঘি খেয়ে যান। এবং খাওয়ার পরও দেখবেন দিব্য কমছে ওজন!

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৯
Share:

ডুকান ডায়েট কী, কষ্ট না করেই কমবে ওজন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

সকালে খেলেন ডিম সেদ্ধ আর বেকড ফিশ। দুপুরে গ্রিলড চিকেন আর স্যালাড। রাতে হালকা মাখন মাখানো স্মোকড ফিশ বা চিকেন। এক দিন-দু’দিন নয়, রোজ। এবং খাওয়ার পরও দেখলেন ওজন কমছে বেশ তাড়াতাড়িই।

Advertisement

লো–কার্বোহাইড্রেট ও হাই প্রোটিন ডায়েট এই ডায়েটে পছন্দের খাবার খেয়েই রোগা হওয়া যায়। সে কন্টিনেন্টাল না খেয়ে ভারতীয় খাবার খেলেও হয়। তবে বাদ দিতে হবে কার্বোহাইড্রেট। যেমন ভাত, রুটির মতো খাবার। বদলে বেশি করে খেতে হবে মাছ, মাংস, ডিম। প্রোটিন ডায়েটেরই একটি ধরন হল ডুকান ডায়েট। ফরাসি চিকিৎসক পিয়ের ডুকানের তৈরি এই ডায়েট। তার নামেই নামকরণ হয়েছে খাওয়াদাওয়ার এই বিশেষ পদ্ধতির। ডুকান ডায়েটের নিয়ম হল, থালার অর্ধেকটা ভরাতে হবে শাকসব্জি দিয়ে, বাকিটা মাছ-মাংস বা ডিম দিয়ে। ভাত বা রুটির ছিটেফোঁটাও থাকবে না। আর থাকবে না কোনও রকম মিষ্টি বা চিনি দেওয়া খাবার বা মিষ্টি জাতীয় পানীয়।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাওয়া যাবে এই ডায়েটে। চাইলেই ঘি, মাখন বা চিজ় খেতে পারেন। তবে সবই পরিমিত মাত্রায়। দিনে দু’চামচের মতো ঘি খেতেই পারেন। মাংসের সঙ্গে হালকা চিজ়ও চলবে। অনেকে অবশ্য প্রোটিনের সঙ্গে চিজ়, মাখন এগুলো এড়িয়ে চলেন। বরং বাদাম, অল্প অলিভ অয়েল সামান্য তেলে সতে করা মাছ বা মাংস বেশি পছন্দ করেন।

Advertisement

কার্বোহাইড্রেট খাওয়া কমালে ওজন কমে দু’ভাবে। প্রথমত, কম কার্বোহাইড্রেট মানে শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়া। শরীরের অভ্যন্তরীন কাজ চালানোর জন্য গ্লুকোজই যেহেতু জ্বালানি হিসাবে কাজ করে, এর অভাব হলে শরীরে জমা চর্বি গলিয়েও প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করে নেয় শরীর। ফলে খুব বেশি ব্যায়াম না করেও ওজন কমতে শুরু করে। এই পদ্ধতির নাম কিটোসিস। এর কিছু খারাপ দিক থাকলেও ওজন ও চর্বি কমাতে এর ভূমিকা আছে। দ্বিতীয়ত, কার্বোহাইড্রেটের বদলে বেশি প্রোটিন খেলে পেট বেশি ক্ষণ ভরা থাকে বলে ভুলভাল খাওয়ার তাগিদ অনেক কমে যায়। তার উপর প্রোটিন পরিপাকে খরচ হয় বেশি ক্যালোরি। সবে মিলে ওজন কমে।

তবে প্রোটিন খাওয়ার ব্যাপারেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। লিন ফ্যাট (চর্বি ছাড়া মাংস)-এর বদলে যদি বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, রেড মিট বা তৈলাক্ত মাছ খেতে থাকেন, তা হলে ক্যালোরি পোড়ার চেয়ে বরং বৃদ্ধি পাবে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে সস্ বা নানা রকম ড্রেসিং (বারবিকিউ সস, মেয়োনিজ় ইত্যাদি) বা টপিংসে প্রচুর পরিমাণে চিনি ব্যবহার করলে, তার থেকেও ক্যালোরি চড়চড় করে বৃদ্ধি পাবে।

ডুকান ডায়েট ভাল না খারাপ, সে নিয়ে মতভেদ আছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) রোগা হওয়ার জন্য সুষম ডায়েটের কথাই বলেছে। তাদের মতে, ডুকান ডায়েট স্বল্প সময়ের জন্য ভাল। নিয়ম মানতে পারলে, এক ধাক্কায় অনেকটা ওজন কমে যাবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ডায়েট করলে শরীরে কার্বোহাইড্রেটের অনেকটা অভাব হবে। ফলে এক দিকে ওজন কমবে, অন্য দিকে শরীর দুর্বল হতে থাকবে। মস্তিষ্কের বিকাশের জন্যও কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। এর অভাব হলে ও প্রোটিন বেশি হলে আবার কিডনিও বিগড়ে যেতে পারে। তাই ডুকান ডায়েট সপ্তাহদুয়েক মেনে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে ভাত, রুটি, ডালিয়া বা কিনোয়ার মতো দানাশস্য খাওয়া শুরু করতে হবে, যাতে শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের অনুপাত ঠিক থাকে। একই সঙ্গে ভিটামিন ও খনিজের জোগানও থাকে। বেশ কিছুটা ওজন কমার পর বিন, ডাল, বাদাম, ফল ও লাল চালের ভাত, ব্রাউন ব্রেড ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। দুধ, দই, ছানা, বাদাম ও বীজও খেতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় অভিজ্ঞ কোনও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ডায়েটটি শুরু করা। এতে ওজনও কমবে,স্বাস্থ্যহানিও হবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement