প্রাকৃতিক ‘ব্লাড থিনার’ কোনগুলি? ছবি: সংগৃহীত।
জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন না হলে অল্প বয়সেই থাবা বসাতে পারে হৃদ্রোগ। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল থাকলে এই বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। জীবনযাত্রায় অনিয়ম, অত্যধিক ব্যস্ততা, মানসিক চাপ— এগুলিও কিন্তু হৃদ্রোগের কারণ হতে পারে। হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকা জরুরি। কারণ, রক্ত কতটা সচল ভাবে শিরায় শিরায় বইছে, তার উপর নির্ভর করে অনেক কিছু। শরীরে কয়েক হাজার রক্তনালি রয়েছে, যেগুলি হৃৎপিণ্ড-সহ শরীরের সব অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। রক্ত সরবরাহের পরিমাণ ঠিক থাকলে শরীর ভাল থাকে। হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে। অনেক সময়ে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে রক্ত সঞ্চালনের হার কমে যায় বলেই নানা বিপদের সৃষ্টি হয়। আর সেই জমাট হওয়া বন্ধ করতেই ‘ব্লাড থিনার’ বা রক্ত পাতলা হওয়ার ওষুধ খেতে বলেন চিকিৎসকেরা। ওষুধ তো রয়েছেই তবে রক্ত জমাট হওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও। এদের প্রাকৃতিক ‘ব্লাড থিনার’ বলা যেতে পারে। দেখে নিন, কী কী রয়েছে সেই তালিকায়।
রসুন: রসুনের অ্যান্টি-থ্রম্বোটিক গুণ রয়েছে, যে কারণে নিয়মিত রসুন খেলে রক্ত জমাট বাঁধায় বাধা দিতে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, রসুন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।
অর্জুন গাছের ছাল: হৃদ্যন্ত্রের পেশিগুলির জন্য অর্জুন গাছের ছাল দারুণ উপকারী। নিয়ম করে অর্জুন গাছের ছাল জলে ভিজিয়ে খেলে সেই পানীয় ‘ব্লাড থিনার’-এর কাজ করে।
ভিটামিন ই যুক্ত খাবার: এই ভিটামিন বিভিন্ন ভাবে শরীরে রক্ত জমাট হতে বাধা দেয়। বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, দানাশস্যে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন ই থাকে। হৃদ্রোগ ঠেকাতে সেগুলি ডায়েটে রাখা যেতে পারে। তবে যাঁরা আদতে ব্লাড থিনার ওষুধ খান তাঁদের উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ই খাওয়া কিন্তু চলবে না।
দারচিনি: ক্যাসিয়া দারচিনিতে ব্লাড থিনিং কমপাউন্ড ওয়ারফারিন থাকে। রোজের ডায়েটে পরিমিত মাত্রায় দারচিনি রাখলে রক্ত পাতলা হয় প্রাকৃতিক ভাবেই।
আদা: প্রদাহরোধী এই মশলাও ব্লাড থিনার হিসাবে কাজ করে। এতে থাকা স্যালিসাইলেট ব্লাড থিনার হিসাবে কাজ করে।