উচ্ছে কি কৃমির সমস্যা সারিয়ে দিতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।
কৃমি এক প্রকারের পরজীবী প্রাণী। ভারতীয় জলবায়ুতে কৃমির উৎপাত খুবই বেশি। শিশুদের দেহে এই সমস্যা বেশি দেখা গেলেও যে কোনও বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত মলমূত্র, নখের ময়লা ইত্যাদির মাধ্যমেই কৃমি শরীরে প্রবেশ করে থাকে। পানীয় জলের মাধ্যমেও কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। কৃমি হলে মলদ্বারে চুলকানির অনুভূতি হয়। সঙ্গে ঘন ঘন পেটে ব্যথা ও খিদে কমে যাওয়াও কৃমির লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে আবার অনেক সময় দেখা যায় কৃমি হলে কিছু ক্ষণ পর পর থুতু ফেলতে থাকে শিশু। এমনকি, কৃমির উপদ্রব বাড়লে খিমচে দেওয়া এবং কামড়ে দেওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। অনেক সময়ে মলের মাধ্যমেও কৃমি বেরিয়ে আসে। তবে সমস্যা বাড়াবাড়ির পর্যায় পৌঁছোলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া জরুরি। অনেক বাড়িতেই বড়দের বলতে শোনা যায়, বেশি বেশি করে উচ্ছে খেলেই নাকি কৃমির সমস্যা কমে যাবে, এই ধারণা কি ঠিক?
কৃমি হলেই শিশুকে বেশি করে উচ্ছে খাওয়ান বাবা-মায়েরা। পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘‘উচ্ছে কোনও খারাপ জিনিস নয়। উচ্ছের মধ্যে যে তেতো ব্যাপারটা আছে, সেটা খেলে পেটের মধ্যে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বা অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক প্রভাব তৈরি হতেই পারে। এ ছাড়া উচ্ছেতে অনেক বেশি মাত্রায় ফাইবার থাকে, তাই এটি নিয়ম করে খেলে পেট পরিষ্কার হয়ে যায়। এর ফলে অন্ত্র থেকে অনেকটাই কৃমি বেরিয়ে যেতে পারে। তবে উচ্ছে কখনওই কৃমির ওষুধের বিকল্প হতে পারে না। ওষুধের সঙ্গে উচ্ছে খান, তাতে কোনও সমস্যা নেই।’’
কৃমির সমস্যাকে কখনওই নিছক কোনও সবজির ভরসায় ফেলে রাখা উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ দিন ধরে কৃমির সমস্যায় ভুগতে থাকলে অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে, শরীরে দুর্বলতা আসতে পারে, শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।