মেথি ভেজানো জল খেলে কি সুগার কমে? ছবি: সংগৃহীত।
গরম পড়তেই শরীর ঠান্ডা রাখতে ঘুম থেকে উঠে মেথি ভেজানো জল খাওয়া হচ্ছে অনেক বাড়িতেই। সুগারের রোগীরা আবার সুগার কমানোর আশায় মেথি ভেজানো জল খান। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ এবং ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, চুল পড়া রোধ থেকে শুরু করে রক্তাল্পতার সমস্যায়ও এটি সাহায্য করে। তাই ‘সুপার ফুড’-এর তালিকায় নাম রয়েছে মেথির। কিন্তু ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে মেথির ভূমিকা ঠিক কতটা?
বিশ্ব জুড়ে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ কোটিরও বেশি। টাইপ-২ ডায়াবিটিস মেলিটাস হল বিপাকহারজনিত সাধারণ একটি রোগ। খাবার থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে, তাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করার এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় ডায়াবিটিস হলে। খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। রক্তে থাকা শর্করা শোষণ করতে মস্তিষ্ক থেকে সঙ্কেত পাঠানো হয় অগ্ন্যাশয়ে। যার ফলে ইনসুলিন ক্ষরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই ইনসুলিন রক্তে থাকা শর্করা শোষণ করে তাকে গ্লুকোজ়ে পরিণত করে। এই গ্লুকোজ় থেকে শরীর কাজ করার শক্তি পায়। চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘‘মেথি ভেজানো জলে থাকে ফাইবার। এ ছাড়া থাকে ফলিক অ্যাসিড আর ভিটামিন এ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে মেথি ভেজানো জল খেয়ে ডায়াবিটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ হয়েছে। তবে ওষুধ বন্ধ করে শুধুমাত্র মেথির জলের ভরসায় থাকলে কিন্তু চলবে না। এই পানীয় খেলে ডায়াবিটিস ছাড়াও অ্যালার্জিজনিত সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও কমে।’’
কতটা পরিমাণ মেথি প্রতি দিন খাওয়া উচিত
ডায়াবিটিস থাকলেও মেথি খেতে হবে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে। ‘ডায়াবিটিস এবং মেটাবলিক ডিজ়অর্ডার’ নামক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য বলছে, জলে ভিজিয়েই হোক বা রান্নায় দিয়ে, প্রতি দিন ১০ গ্রাম পর্যন্ত মেথির দানা খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, পারলে প্রতি দিন ডায়াবিটিসের মাত্রা কেমন, তা মেপে তবেই মেথি ভেজানো জল খাওয়া উচিত। সঙ্গে যদি ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেই হবে।
চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, লাভের আশায় অতিরিক্ত মাত্রায় মেথির জল খেয়ে নিলে আবার মুশকিল। চিকিৎসক বলেন, ‘‘খুব বেশি মেথির জল খেলে হজমজনিত সমস্যা হয়, ডায়েরিয়াও হতে পারে। যাঁদের সুগারের মাত্রা অনেক কম তাঁরা মেথি ভেজানো জল খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই পানীয় একেবারেই খাওয়া চলবে না।’’