—প্রতীকী ছবি।
বাস, মিনিবাস এবং অ্যাপ ক্যাবে বসানো ভেহিকেল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস (ভিএলটিডি) রিচার্জ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে রাজ্য পরিবহণ দফতরের দ্বারস্থ হল যৌথ পরিবহণ সংগঠনগুলি। সোমবার পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তার কাছে জমা পড়ল একটি বিস্তারিত ডেপুটেশন। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, গত দু’বছর ধরে অসংখ্য পরিবহণ মালিক ও অপারেটর ভিএলটিডি সিস্টেম রিচার্জ করতে গিয়ে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন। এর ফলে ফিটনেস সার্টিফিকেট (সিএফ) এবং পারমিট নবীকরণও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বলে দাবি সংগঠনগুলির।
ডেপুটেশনটি দিয়েছে জয়েন্ট ফোরাম অফ ট্রান্সপোর্ট অপারেটর্স। তাতে স্বাক্ষর করেছেন অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সাধারণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায়, অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়, সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা, নর্থ বেঙ্গল প্যাসেঞ্জার ট্রান্সপোর্ট অপারেটর্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণব মানি এবং পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দত্ত। ডেপুটেশনে বলা হয়েছে, পরিবহণ দফতরের অনুমোদিত বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে যে ভিএলটিডি ডিভাইসগুলি কেনা হয়েছিল, সেগুলিতে রিচার্জ এবং পরিষেবা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি, পরিষেবা বিভ্রাট ও প্রশাসনিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই রিচার্জের জন্য টাকা জমা দেওয়ার পরও ট্র্যাকিং লিঙ্ক সক্রিয় হচ্ছে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভেন্ডার সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে পরিষেবা না দেওয়া, ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং অতিরিক্ত নবীকরণ ফি আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
সংগঠনগুলির দাবি, পরিবহণ ক্ষেত্র এমনিতেই নানা আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপে রয়েছে। তার মধ্যে ভিএলটিডি রিচার্জের জটিলতার কারণে বহু গাড়ির নথি নবীকরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অথচ অপারেটরদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনে চলার সদিচ্ছা রয়েছে বলেও ডেপুটেশনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবহণ দফতরের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, অনুমোদিত ভেন্ডারদের দ্রুত প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটিয়ে স্বাভাবিক রিচার্জ ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অপারেটরদের বিরুদ্ধে কোনও জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে বলা হয়েছে, ভিএলটিডি রিচার্জের বর্তমান সমস্যার কারণে কোনও পরিবহণ গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট বা পারমিট নবীকরণ আটকে রাখা চলবে না।
প্রসঙ্গত, নতুন সরকার গঠনের পর এখনও পরিবহণ দফতরের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বে কোনও মন্ত্রী আসেননি। তাই সচিব মারফতই যাবতীয় কাজকর্ম হচ্ছে। ভিএলটিডি সংক্রান্ত যে নিয়ম বর্তমানে বলবৎ রয়েছে, তা আগের সরকারের আমলে চালু হয়েছিল। তাই পরিবহণ সংগঠনগুলির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করুন। পরিবহণ সংগঠনগুলির আরও বক্তব্য, জনপরিবহণ ব্যবস্থাকে সচল ও স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। সিএফ ও পারমিট নবীকরণ না হলে অনেক বেসরকারি বাস রাস্তায় নামতে পারবে না। ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়বে। এখন রাজ্য পরিবহণ দফতর এই দাবিগুলির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করে, সে দিকেই তাকিয়ে পরিবহণ মহল।