ছবি : সংগৃহীত।
শীতে তো বটেই, সারা বছরই পাওয়া যায় গাজর। দারুণ সুস্বাদু সব্জি না হলেও রং এবং পুষ্টিগুণের জন্য গাজরের কদর রয়েছে। বিশেষ করে শীতের গাজরের হালুয়া দেখলে লালায়িত হন না, এমন খাদ্যরসিক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে গাজরের সঠিক পুষ্টিগুণ পেতে হলে তা রান্না করে নয়, কাঁচাই খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন গবেষণায় তার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। গোয়ার বাসিন্দা তারকা পুষ্টিবিদ তথা যাপন প্রশিক্ষক লিউক কুটিনহো জানাচ্ছেন, কাঁচা গাজর চিবিয়ে খেতে যদি ভাল না লাগে তবে গাজরের রস বানিয়েও খেতে পারেন। তাতেও নানা ভাবে উপকৃত হবে শরীর।
১. রোগে পড়ার ঝুঁকি কমায়
শীতকালে সর্দি-কাশি এবং নানা ধরনের জ্বরজ্বালার প্রকোপ বাড়ে। গাজরে থাকা ভিটামিন সি, এ এবং অন্য অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা নানা ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখে শরীরকে।
২. ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি
শীতে শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের প্রাণবন্ত ভাব নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় শুষ্ক ত্বকে দ্রুত বলিরেখাও পড়ে। নিস্প্রভ এবং অনুজ্জ্বল দেখায় মুখ। নিয়মিত গাজরের রস খেলে ত্বক হবে উজ্জ্বল, মসৃণ ও নরম। কারণ, গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং অন্যান্য ভিটামিন সহজে রক্তে মিশে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত ফেরাতে এবং ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করবে।
৩. চোখের জন্য ভাল
গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে, যা চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে জরুরি। নিয়মিত গাজরের রস খেলে চোখ ভাল থাকে। চোখের নানা রোগ দূরে থাকে। দৃষ্টিশক্তিও উন্নত হয়।
৪. হার্টের জন্য ভাল
গাজরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়ামও। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য পটাশিয়াম জরুরি। এ ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রায় প্যাকেটজাত খাবারের মাধ্যমে শরীরে যে ক্ষতিকর সোডিয়াম যায়, তার প্রভাব কমাতেও সাহায্য করে পটাশিয়াম। এতে হার্ট সুস্থ থাকে। গাজরে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। এতেও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
৫. হজম শক্তি উন্নত করে
গাজরের রস বানানোর সময় আদা, কাঁচা হলুদ এবং সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিলে আর রস না ছেঁকে খেতে পারলে তা পেটের জন্য অত্যন্ত ভাল। প্রথমত, না ছেঁকে খেলে গাজরের ফাইবার পুরোপুরি নষ্ট হবে না, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে রাখার জন্য উপকারী। এ ছাড়া আদার রস এবং হলুদ প্রদাহ কমিয়ে হজমশক্তি ভাল রাখে। লেবুর রসও হজমের জন্য উপকারী।
৬. লিভার পরিষ্কার রাখে
গাজরে থাকা ভিটামিন এ একটি অত্যন্ত জোরালো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এ ছাড়া গাজরে বেশ কিছু প্রদাহনাশক উপাদানও রয়েছে, যা লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ বার করে দিতে এবং লিভারের কোষের ক্ষতি মেরামতে কার্যকরী। বিশেষ করে যাঁদের নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য গাজরের রস ওষুধের মতো কাজ করতে পারে। লিভারে থাকা এনজ়াইমগুলিকে আরও ভাল ভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে গাজরের রস। লিভার যদি নিজের কাজ ভাল ভাবে করতে পারে, তবে নানা অসুখ থেকে বাঁচে শরীরও।
৭. ক্যানসার প্রতিরোধক
বহু গবেষণাতেই গাজরকে ক্যানসার প্রতিরোধক বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে সেই সব গবেষণায় এ-ও দেখা গিয়েছে যে গাজরের রস বানিয়ে বা সেদ্ধ করে খাওয়ার চেয়ে কাঁচা গাজর চিবিয়ে খেলে উপকার হয়েছে বেশি।