চুলের ট্রিটমেন্ট থেকে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মসৃণ, জটহীন, কোমল চুলের শখপূরণের জেরে পার্লারে গিয়ে চিরতরে স্ট্রেট করিয়ে আসেন অনেকে। যদিও ‘চিরতরে’র অর্থ এ ক্ষেত্রে বছরখানেক। আবারও চুল স্বাভাবিক হতে শুরু করলে ট্রিটমেন্ট করাতে হয়। এ ভাবেই এক দশক জুড়ে চুলের ট্রিটমেন্ট করিয়ে চলেছেন মহিলারা। অথচ এই ধরনের ট্রিটমেন্টে যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলি থেকে শারীরিক নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
সাময়িক সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি। এই হেয়ার ট্রিটমেন্টগুলিতে সাধারণত নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। সেগুলির মধ্যে কিছু উপাদান শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। মাথার ত্বক খুব সংবেদনশীল হওয়ায়, এই রাসায়নিক সহজেই ত্বকের ভিতর দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মাথার ত্বকে ক্ষত, চুলকানি বা জ্বালা থাকলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, হেয়ার কেমিক্যাল স্ট্রেটনার বা চুল স্ট্রেট করার রাসায়নিক দ্রব্যে প্যারাবিন, ফর্মালডিহাইড, থ্যালেটস, গুয়ানিডিন কার্বোনেট, অ্যামোনিয়াম থায়োগ্লাইকোলেটের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকে। যদি দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহার করা হয়, তা হলে এগুলি ধীরে ধীরে শরীরে বিষক্রিয়া করতে পারে। এগুলির গঠন শরীরের স্বাভাবিক হরমোন, ইস্ট্রোজেনের গঠনের মতোই। তাই এগুলি শরীরে গেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে শরীরে। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে জরায়ুর স্বাস্থ্যের উপর। দীর্ঘ দিন ধরে এমন প্রভাব চলতে থাকলে কোষের স্বাভাবিক গঠন বদলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কেবল জরায়ু নয়, স্তন ক্যানসারেরও ঝুঁকি বাড়ে এই সমস্ত যৌগের কারণে।
তবে একইসঙ্গে চিকিৎসকের বক্তব্য, ‘‘এগুলি সবই ছোট ছোট সমীক্ষার প্রাথমিক ফলাফল। এই সমস্ত যৌগগুলি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে ঠিকই। কিন্তু সে বিষয়ে কোনও প্রামাণ্য তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি যে এগুলির ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়বে। আগেকার দিনেও স্তনের ও জরায়ুর ক্যানসার হত। তখন তো আর এ সব ট্রিটমেন্ট ছিল না। তাও তো হত। তাই আমরা বলি, কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থগুলি ব্যবহার না করাই ভাল, কারণ দীর্ঘ দিন ব্যবহারের ফলে কী ঘটতে পারে, তা আমরা জানি না। তাই যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপকরণ ও উপাদান ব্যবহার করাই নিরাপদ।’’