East Bengal

আইএসএলের তৃতীয় ম্যাচেই হার ইস্টবেঙ্গলের, জামশেদপুরের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও হেরে গেল লাল-হলুদ

আইএসএলে এখনও টানা তিনটি ম্যাচ জেতা হল না ইস্টবেঙ্গলের। শুক্রবার যুবভারতী স্টেডিয়ামে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও হারতে হল লাল-হলুদকে। ইস্টবেঙ্গল হেরেছে ১-২ ব্যবধানে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৩
Share:

হতাশ ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়‌ো। ছবি: সমাজমাধ্যম।

ইস্টবেঙ্গল ১ (এডমুন্ড)
জামশেদপুর ২ (এজ়ে, তাচিকাওয়া)

Advertisement

আইএসএলে এখনও টানা তিনটি ম্যাচ জেতা হল না ইস্টবেঙ্গলের। শুক্রবার যুবভারতী স্টেডিয়ামে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও হারতে হল লাল-হলুদকে। খারাপ ফুটবল এবং সুযোগ নষ্টই ডোবাল অস্কার ব্রুজ়োর দলকে। ইস্টবেঙ্গল হেরেছে ১-২ ব্যবধানে। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। দ্বিতীয়ার্ধে স্টিফেন এজ়‌ে এবং রেই তাচিকাওয়ার গোলে জেতে জামশেদপুর। টানা তিনটি ম্যাচ জিতে লিগের শীর্ষে উঠে এল জামশেদপুর।

গত মরসুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলে খেললেও চোট পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল মাধি তালালকে। রাফায়েল মেসি বৌলিকেও রাখা হয়নি। দু’জনই এ দিন ইস্টবেঙ্গলকে যথেষ্ট বেগ দিলেন। মাঝমাঠে খেলা পরিচালনা করেছেন তালাল। জামশেদপুরের দ্বিতীয় গোলটি এসেছে তাঁর পাস থেকেই। মেসি বৌলিও গোল করেছিলেন। যদিও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে। অন্য দিকে, ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে এ দিন অভিষেক হলেও আন্টন সোজ়বার্গ বলার মতো কিছুই করতে পারেননি। নিষ্প্রভ ছিলেন ইউসেফ এজ়েজারিও। খুঁজে পাওয়া যায়নি মহম্মদ রশিদকেও।

Advertisement

ম্যাচের শুরুতেই বক্সে ক্রস ভাসিয়েছিলেন মিগুয়েল। হেড করেছিলেন জয় গুপ্তা। তবে ঠিকঠাক হেড হয়নি। দু’মিনিট পরেই পায়ের জঙ্গল থেকে বল কাটিয়ে নিয়ে ভিন্সি ব্যারেটোকে পাস দিয়েছিলেন মাধি তালাল। ভিন্সি শট নিলেও তা প্রতিহত হয়। তবে শুরুতেই তালাল বুঝিয়ে দেন, পুরনো দলের বিরুদ্ধে কোনও আবেগ নিয়ে নামেননি তিনি। সাত মিনিটের মাথায় বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে গোল করে ফেলেছিলেন মেসি বৌলি। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। মেসি বৌলি বিশ্বাসই করতে পারেননি।

ধীরে ধীরে খেলায় দখল নিতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েল এবং বিপিন সিংহ নিজেদের মধ্যে পাস খেলে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। দূরপাল্লার একটি শট নিয়েছিলেন জিকসন সিংহ। তবে সফল হননি। উল্টো দিকে, ভিন্সি একাধিক বার সমস্যায় ফেলেন ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে। গোলকিপার প্রভসুখন গিলের তৎপরতায় বেঁচে যায় ইস্টবেঙ্গল।

১৮ মিনিটে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন তালাল। ফ্রিকিক থেকে সরাসরি গোলে শট নিয়েছিলেন। কোনও মতে আঙুল ছুঁইয়ে বল বাইরে বার করে দেন প্রভসুখন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জামশেদপুরের আক্রমণ বাড়তে থাকে। মাঝমাঠও নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে তারা। এর কৃতিত্ব অনেকটাই প্রাপ্য তালালের। তিনিই গোটা দলের খেলা পরিচালনা করছিলেন। ইস্টবেঙ্গলের যা আক্রমণ তা তৈরি হচ্ছিল মিগুয়েলের পা থেকেই। রশিদ সে ভাবে বলই পাচ্ছিলেন না।

খেলার বিপরীতেই ৪০ মিনিটে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বাঁ দিক থেকে বিপিন ক্রস ভাসিয়েছিলেন। জামশেদপুরের ডিফেন্ডারের হেড সরাসরি যায় এডমুন্ডের কাছে। তিনি বিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। বিরতির ঠিক আগে সহজতম সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েলের কর্নার ভেসে এসেছিল অরক্ষিত থাকা এজ়েজারির কাছে। তিনি সময় নিয়ে অনায়াসে বল লক্ষ্যে রাখতে পারতেন। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে তাঁর হেড বারের অনেকটা উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ইস্টবেঙ্গল চেষ্টা করছিল ধীরে ধীরে খেলার দখল নেওয়ার। বল নিজেদের পায়ে রেখে আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টা করছিল তারা। তবে জামশেদপুর ম্যাচে ফিরতে দেরি করেনি। ফ্রিকিক থেকে তালালের ক্রসে হেড করেছিলেন স্টিফেন এজ়ে। কোনও মতে গোল বাঁচান প্রভসুখন। তার ছ’মিনিট পরেই সমতা ফেরায় জামশেদপুর। এ বার নিকোলা বল ভাসিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফাঁকায় হেড করে গোল করেন এজ়ে।

দ্বিতীয় গোল করার চেষ্টা করতে থাকে দু’দলই। কিন্তু কেউই সফল হচ্ছিল না। ইস্টবেঙ্গল এবং জামশেদপুর দু’দলই রক্ষণ জমাট রেখে আক্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষের তিন মিনিট আগে জামশেদপুরকে এগিয়ে দেন রেই তাচিকাওয়া। এখানে কৃতিত্ব বেশি তালালের। তাচিকাওয়া পাস দিয়েছিলেন তালালকে। অসাধারণ ব্যাক ফ্লিকে সেই বল তাচিকাওয়াকেই পাস দেন তালাল। জাপানের ফুটবলার চলতি বলেই নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান। প্রভসুখনের কিছু করারই ছিল না।

সাত মিনিট অতিরিক্ত সময় পেলেও গোল শোধ করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। যদিও একাধিক বার বিপক্ষের গোলের কাছাকাছি চলে এসেছিল তারা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement