বদহজম বলে পেটের সমস্যা এড়াচ্ছেন? কখন সতর্ক হবেন? ছবি:সংগৃহীত।
চোঁয়াঢেকুর, বদহজম, পেটব্যথা— সবই গ্যাস-অম্বলের লক্ষণ। এমন সমস্যা থাকে ঘরে ঘরেই। আর তাই এ নিয়ে মাথাব্যথাও থাকে না। পেট ভার লাগছে, সহজ উপায় অ্যান্টাসিড খেয়ে নেওয়া। গ্যাস কমানোর নানা রকম ভেষজ উপকরণও বাজারে মেলে। রয়েছে ঘরোয়া টোটকাও। আর খুব বেশি হলে গ্যাসের ওষুধ কিনে খেয়ে নেন অনেকেই।
কিন্তু লক্ষণ সাধারণ হলেই, কি অসুখও সাধারণ হয়? চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, পেটফাঁপা, গ্যাস, অম্বলের সমস্যা সব সময়ে অতি সাধারণ হয় না। বরং নেপথ্যে থাকতে পারে ব্যাক্টেরিয়া জনিত সংক্রমণও। মুম্বই নিবাসী চিকিৎসক মনন ভোরা জানাচ্ছেন, সব সময় তা কিন্তু সাধারণ বদহজম থেকে না-ও হতে পারে। একই সমস্যা বার বার ঘুরে-ফিরে এলে, বুঝতে হবে গলদ অন্য কোথাও। এমন ধরনের পেটের অসুখের নেপথ্যে থাকতে পারে এইচ পাইলোরিও।
এই ব্যাক্টেরিয়া খাবার এবং জল থেকে শরীরে ঢুকতে পারে। অপরিচ্ছন্ন হাতে খেলে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রাখলে এইচ পাইলোরি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এই ব্যাক্টেরিয়া শরীরের ঢুকলে ঘাঁটি গাড়ে পাকস্থলীর দেওয়ালে। ধীরে ধীরে শুরু হয় পেটের সমস্যা। গ্যাস, অম্বল, পেটখারাপ, বমি ভাব, ঘন ঘন ঢেকুর, পেটে অস্বস্তি, এই ধরনের নানা লক্ষণ একে একে প্রকাশ পেতে থাকে। অনেকেই হজমের গোলমাল ভেবে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে যান বা খাদ্যাভ্যাসে বদল আনেন।
তবে পেটের সমস্যা ব্যাক্টেরিয়া জনিত কারণে হলে, সাধারণ ওষুধে বা হালকা খাবার খেলে তা কমবে না। মল, শ্বাসের পরীক্ষা এবং এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে ধরা পড়ে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে কি না। হলে, তা সারানোর উপায় হল অ্যান্টিবায়োটিক। ১৪ দিনের ওষুধের কোর্স থাকে। চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, ওষুধ শেষ হল মানেই ধরে নেওয়া যায় না, রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ। কারণ, ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ এর পরেও থেকে যেতে পারে। পরীক্ষা করে দেখা দরকার, তা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে কি না।