স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে দৈনন্দিন অভ্যাসেই? ছবি : সংগৃহীত।
প্রতি বছর ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে ভারতের মহিলাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। অন্তত তেমনই বলছে ভারতীয় মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের একটি সমীক্ষা। কিন্তু কেন বাড়ছে এই রোগ? সে প্রশ্নের উত্তরে এক ক্যানসার চিকিৎসক দায়ী করেছেন জীবনযাপনের ধরন এবং অতিরিক্ত মেদবৃদ্ধিকেও।
দিল্লির ওই চিকিৎসকের নাম শুভম গার্গ। এক পডকাস্টে তিনি জানিয়েছেন, কেন আধুনিক জীবনযাত্রা এবং তার জন্য বদলে যাওয়া বিপাকের হারের পরিবর্তন স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে কেন অল্পবয়সি মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বাড়ছে আর কী ভাবেই বা তাঁরা ওই ঝুঁকি কমাতে পারেন, সে ব্যাপারেও আলোচনা করেছেন চিকিৎসক।
ঘুমও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে
প্রথমেই চিকিৎসক সতর্ক করেছেন ঘুমের ব্যাপারে। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে ঘুমের সময় কমছে। কাজের জন্য হোক বা অন্য যে কোনও কারণে অধিকাংশ অল্পবয়সি মহিলারই রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না। কেউ হয়তো নিয়মিত ৫ ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দিন সেটুকু ঘুমও জুটছে না। শুভম বলেছেন, ‘‘বহু গবেষণাতেই দেখা গিয়েছে যে অপর্যাপ্ত ঘুম, অগভীর ঘুম এবং ঘুমোনোর কোনও নির্দিষ্ট রুটিন না থাকা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।’’
কারণ ব্যাখ্যা করে চিকিৎসক জানিয়েছেন, অপর্যাপ্ত ঘুম মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে প্রভাব ফেলে। তাতে ইস্ট্রোজেন বাড়ে। ডিএনএ মেরামতির প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি, শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাতেও তার প্রভাব পড়ে। আর এই সব ক’টি ঘটনা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে চিকিৎসক বলছেন, শুধু এই একটি কারণকেই সম্পূর্ণ দায়ী করা ঠিক নয়।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা উদ্বেগ, দিনের অনেকটা সময়ে বসে কাজ করার রুটিন, পেট এবং কোমরে মেদবৃদ্ধির কারণেও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘মূলত শহুরে জীবনযাত্রাতেই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। সম্ভবত সে কারণেই শহরে এই ঝুঁকি বাড়ছে বেশি।’’
পেটের মেদ কেন স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে?
পেটের মেদ কেন স্তন ক্যানসারের কারণ হতে পারে, তার কারণ ব্যাখ্যা করে চিকিৎসক জানিয়েছেন, পেটের মেদ শরীরের অন্য অংশের মেদের থেকে বেশি সক্রিয়। এর থেকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী সাইটোকিনস তৈরি হয়, যা ইনসুলিনকে নিজের কাজ করতে বাধা দেয়। ফলে শর্করা ভেঙে শক্তিতে পরিণত হয় না। শরীরে শর্করা জমতে থাকে, যা ক্ষতিকর। এছাড়া ওই সাইটোকিনস বাড়িয়ে দেয় ইস্ট্রোজেনের নিঃসরণ।
মেনোপজ়ের পরে ওই সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসক, যা শরীরে বিপাকের হার কমাবে, প্রদাহ বৃদ্ধি করবে এবং সার্বিক ভাবে বাড়িয়ে দেবে ক্যানসারের ঝুঁকি।
তবে কি জীবনযাপনের ধরন বদলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব?
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে জিনগত বিষয়টিও ভাবার। তবে সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো অবশ্যই সম্ভব। পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা, শরীরে বিশেষ করে পেটে মেদ জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় মেনে চললে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পাশাপাশি, মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।