Thalassemia Medicine

একটি ওষুধেই কি নিয়ন্ত্রণে থাকবে থ্যালাসেমিয়া? বিশ্বে প্রথম থ্যালাসেমিয়ার ওষুধে অনুমোদন দিল এফডিএ

থ্যালাসেমিয়ার তেমন কোনও চিকিৎসাপদ্ধতি নেই। রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয় মাত্র। প্রথম বার থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য খাওয়ার ট্যাবলেট তৈরি হয়েছে। এই ওষুধে অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৩
Share:

থ্যালাসেমিয়ার ওষুধ এসে গেল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য খাওয়ার ওষুধ চলে এল। বিশ্বে প্রথম বার ‘ওরাল পিল’ তৈরি হল বলে খবর। ওষুধটির নাম মিটাপিভ্যাট। রক্তাল্পতায় ভুগছেন যে থ্যালাসেমিয়ার রোগী, তাঁর জন্য ওষুধটি কার্যকর হবে বলে দাবি করা হয়েছে। আলফা ও বিটা, দু’ধরনের থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণেই কার্যকর হবে ওষুধটি।

Advertisement

মিটাপিভ্যাট নিয়ে গবেষণা চলছিল গত কয়েক বছর ধরে। ২০২৩ সালে ওষুধটির অনুমোদনের জন্য় সুপারিশ করা হয়। গত বছর ডিসেম্বরে ওষুধটি ব্যবহারে ছাড়পত্র দেয় আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। এ বছর থেকে ওষুধটি বাজারে চলে আসবে বলে খবর।

থ্যালাসেমিয়া রক্তের অসুখ। এই রোগ জিনগত ভাবে বাহিত হয়। মা ও বাবা দু’জনেই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তা হলে শিশুর মধ্যেও রোগটি চলে আসতে পারে। থ্যালাসেমিয়ায় রক্তের লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমতে থাকে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও কমে। ফলে রক্তাল্পতা দেখা দেয়। থ্যালাসেমিয়া সাধারণত দু’ধরনের হয়— আলফা থ্যালাসেমিয়া এবং বিটা থ্যালাসেমিয়া। বাবা-মায়ের থেকে প্রাপ্ত চারটির মধ্যে এক বা একাধিক জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে আলফা থ্যালাসেমিয়া হয়। জিন যত ত্রুটিপূর্ণ হবে, সমস্যা তত বাড়বে। বিটা থ্যালাসেমিয়া আরও বেশি তীব্র হয়। মা-বাবার কাছ থেকে প্রাপ্ত জিন ত্রুটিপূর্ণ হলেই বিটা থ্যালাসেমিয়া হয়ে থাকে। থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, এমন কোনও ওষুধ নেই। রোগীর ব্লাড ট্রান্সফিউশন বা নিয়মিত রক্ত বদলানোর প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করে রোগটি সারানোর চেষ্টা হয় বটে, তবে সেই প্রক্রিয়া জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং তার খরচও আকাশছোঁয়া।

Advertisement

গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন ওষুধটি ‘পাইরুভেট কাইনেজ অ্যাক্টিভেটর’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ, এর কাজ হবে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা। লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গিয়ে যে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দিতে থাকে, তাকে ঠেকিয়ে রাখবে ওষুধটি। দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখবে। বারে বারে রক্ত বদল না করেও রোগীকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করবে ওষুধটি। তবে এর দাম কত হবে বা কবে থেকে তা বাজারে মিলবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement