বিরিয়ানির সঙ্গে আপস না করেই শরীর থাকবে ফিট। ছবি: সংগৃহীত।
চলছে উৎসবের মরসুম। আর বাঙালির উৎসব মানেই ভূরিভোজ। সকলে মিলে একসঙ্গে জমিয়ে পাত পেড়ে না খেলে উৎসব বলে ঠিক মনেই হয় না। উৎসবের দিনে চাইনিজ়, কোরিয়ান পদ যতই খাওয়া হোক না কেন, বিরিয়ানির কদর কিন্তু কমে না। নববর্ষ হোক কিংবা বড়দিন, বিরিয়ানি খেয়েই উদ্যাপন করেন অনেকে। আর সেই বিরিয়ানি মটনের হলে তো কথাই নেই। কিন্তু বিরিয়ানি খাওয়ার আগে মাথায় চিন্তা আসে— ওজন বেড়ে যাবে না তো? কোলেস্টেরল বেড়ে যাবে না তো? ধোঁয়া ওঠা গরম বিরিয়ানির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে এই সব চিন্তা মাথা থেকে একেবারে ঝেড়ে ফেলা জরুরি। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট চিকিৎসক পালানিপ্পান মানিক্কাম জানালেন বিরিয়ানি খেয়েও কী ভাবে সুস্থ থাকা যায়।
খাসির মাংস উচ্চমানের প্রোটিন, কিন্তু এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটও বেশি থাকে। আর বিরিয়ানির ভাত হল দ্রুত হজমযোগ্য শর্করা। চিকিৎসকের মতে, এই দুয়ের মিশেল একসঙ্গে খেলে শরীরে এক ধাক্কায় অনেকটা ক্যালোরি ঢোকে আর রক্তে শর্করার মাত্রাও এক লাফে অনেকটা বেড়ে যায়। বিরিয়ানি খেলে হজম হতে অনেকটা সময় লাগে। পালানিপ্পান বলেন, ‘‘ডায়াবিটিস, ফ্যাটি লিভার বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে এমন কোনও ব্যক্তি এক প্লেট মটন বিরিয়ানি খেলে তাঁর পোস্ট মিল গ্লুকোজ়ের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীর ক্লান্ত ও নিস্তেজ লাগতে পারে।’’
কোন নিয়ম মানলে মটন বিরিয়ানি খেয়েও শরীরের ক্ষতি হবে না?
চিকিৎসকের মতে, মটন বিরিয়ানি শরীরের শত্রু নয়। কতটা পরিমাণ খাচ্ছেন এবং কত দিন অন্তর অন্তর খাচ্ছেন, সেটাই আসল। বিরিয়ানি খেয়ে সুস্থ থাকতে হলে সবার আগে পরিমাণ কমাতে হবে। প্রোটিন বেশি হলেও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমাতে হবে। সঙ্গে পেট ভর্তি করার জন্য এক বাটি স্যালাড রাখতে হবে। বিরিয়ানি রাতে খাবেন না। সূর্য ডোবার আগেই খাওয়াদাওয়া সেরে ফেলুন।