বন্ধ্যত্বের নেপথ্যে সবচেয়ে বেশি কোন অভ্যাস দায়ী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সন্তান হচ্ছে না। অতএব সমস্যা রয়েছে মেয়েটিরই। কোনও রকম পরীক্ষানিরীক্ষার আগেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে। অথচ বন্ধ্যত্বও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। এই সমস্যায় মহিলাদের পাশাপাশি ভুগছেন অগণিত পুরুষও। এ ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার বয়স ও বাড়তি ওজনকেই দায়ী করা হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। তবে আরও একটি বড় কারণ আছে, যা অজান্তেই বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে, এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। রাতে দেরি করে ঘুমোনোর অভ্যাস অনেকেরই আছে। রাত জেগে ওয়েব সিরিজ় দেখা, সমাজমাধ্যমে নজর দিতে গিয়ে কখন যে চোখের নিমেষে ভোর হয়ে যায় তা বুঝতেই পারেন না অনেকে। কম ঘুমের ফলে কেবল ক্লান্তি, মাথা ব্যথা কিংবা মনোযোগের অভাব হয় না, বন্ধ্যত্বের পিছনে এই অভ্যাসকেও দায়ী করছেন চিকিৎসকেরা।
স্ত্রীরোগ চিকিৎসক অঞ্জলি কুমারের মতে, কম ঘুম কিন্তু বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘ডায়েট, সাপ্লিমেন্ট বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা নয়, এই মুহূর্তে বন্ধ্যত্বের সবচেয়ে বড় কারণ হল কম ঘুম। আমরা এমন এক জগতে বাস করছি যেখানে দেরিতে ঘুমোনোটা খুব স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ঘাঁটা, রাত জেগে অফিসের কাজ শেষ করা, ওয়েব সিরিজ় দেখা— এ সবের কারণে ঘুমের সময়ের কোনও ঠিকই থাকে না। যাঁর যে দিন যখন ইচ্ছে তখন ঘুমোচ্ছেন। কিন্তু শরীর কিন্তু ইচ্ছে অনুযায়ী চলে না। ঋতুস্রাব চক্র, ডিম্বস্ফোটন, প্রজনন ক্ষমতা এবং এমনকি শরীরের ওজনও সার্কাডিয়ান রিদম নামক একটি ২৪ ঘণ্টার অভ্যন্তরীণ ঘড়ির উপর নির্ভর করে চলে। তাই যখন ঘুমোনোর সময় ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়, তখন শরীরের হরমোনগুলিও বিভ্রান্ত হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।’’
চিকিৎসক শুভম সাহার মতে, ঘুমের সময় লিউটিনাইজ়িং হরমোন ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোনের মতো ফার্টিলাইজ়িং হরমোনের ক্ষরণ হয়। অপর্যাপ্ত বা অনিয়মিত ঘুমের ফলে এই সব হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়, ফলে ডিম্বস্ফোটনে বিলম্ব বা তা বন্ধ হয়ে যাওয়া, অনিয়মিত ঋতুস্রাব এবং সন্তানধারণের সমস্যা হতে পারে।
মহিলাদের ক্ষেত্রে
চিকিৎসকের মতে, মহিলাদের অপর্যাপ্ত ঘুম কর্টিসল এবং মেলাটোনিনের মাত্রা পরিবর্তন করে, যা সরাসরি হাইপোথ্যালামিক পিটুইটারি ওভারিয়ান অক্ষকে প্রভাবিত করে। এর ফলে অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটন, লুটেল ফেজের ত্রুটি, ইস্ট্রোজেন-প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্য বিগড়ে যায়, এন্ডোমেট্রিয়ামের গ্রহণ করার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এই সমস্যাগুলির কারণে ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়ে যায়, সন্তারধারণেও সমস্যা শুরু হয়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে
অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হয়। শুধু তা-ই নয়, শুক্রাণুর গতিশীলতা ও গঠনের নেতিবাচক পরিবর্তন আসে।