আপনার হেয়ার ডাই নিরাপদ তো, কী ক্ষতি হতে পারে? ছবি: ফ্রিপিক।
চুল হাইলাইট করার শখ হয়েছে? পাকা চুল ঢাকতে নানা রকম রং করানোর চল হয়েছে এখন। যত দামি রং-ই করান না কেন, তা শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর নয় মোটেই। ঘন ঘন চুলে রাসায়নিক দেওয়া রং করালে, তার থেকে অ্যালার্জির সংক্রমণ তো বাড়বেই, চর্মরোগের ঝুঁকিও বাড়বে। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ইদানীং কালে অ্যালার্জির সংক্রমণ খুব বেড়ে গিয়েছে। এর অন্যতম বড় কারণই হল হেয়ার ডাই। এতে থাকা রাসায়নিক কী ভাবে ক্ষতি করে চলেছে, তা নিয়ে ধারণা নেই অনেকেরই।
হেয়ার ডাইয়ের কী কী রাসায়নিক বিপজ্জনক?
প্যারা-ফেনিলিনডায়ামিন
এটি হেয়ার ডাইয়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক উপাদান। রং দীর্ঘস্থায়ী করতে এই রাসায়নিক মেশানো হয়। এর থেকে ত্বকের প্রদাহ বাড়ে। ত্বক লাল হয়ে যাওয়া,র্যাশ,চুলকানি, এমনকি শ্বাসনালিতে প্রদাহও হতে পারে।
অ্যামোনিয়া
এর কড়া গন্ধে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া, এটি মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি এবং কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস নামক চর্মরোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
চুলের প্রাকৃতিক রঙের জায়গায় কৃত্রিম রং করতে সাহায্য করে এই উপাদান। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বক পুড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। এর থেকে ত্বকে ফোস্কা, র্যাশ দেখা দিতে পারে।
ফরম্যালডিহাইড
কৃত্রিম রং সংরক্ষণের জন্য হেয়ার ডাইতে এই মেশানো হয়। এটি খুব ক্ষতিকর অ্যালার্জেন। যাঁদের অ্যালার্জির ধাত আগে থেকেই আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক। এটি থেকে চোখে জ্বালা, নাক দিয়ে জল পড়া এবং ত্বকে র্যাশ হতে পারে।
চুলে রং করানোর পরে অ্যালার্জি হচ্ছে কি?
চুলে রং করানোর পরে অ্যালার্জি হচ্ছে কি না, তা কিছু লক্ষণেই বোঝা যাবে। যেমন, ডাই করার কিছু দিন পরেই মাথার ত্বকে চুলকানি, র্যাশ দেখা দেবে, ত্বক লাল হয়ে ফুলে উঠবে।
ঘাড়, গলার কাছে ও কপালে ফুস্কুড়ি বা বড় বড় ফোস্কা পড়তে দেখা যাবে। চোখে জ্বালা ভাব দেখা দেবে।
ত্বকে লালচে র্যাশ বেরোতে পারে, কপালে ও ঘাড়ে ব্রণ হতে পারে।
ত্বকের রঙে বদল আসতে পারে। সাদাটে ছোপ দেখা দিতে পারে ত্বকে।
কপাল, চোখের পাতা এবং কানের চারপাশ ফুলে উঠবে। চোখ ও নাক দিয়ে অনবরত জল পড়া, মুখ ফুলে ওঠার মতো লক্ষণ দেখা দেবে।
অ্যালাফাইল্যাক্সিসের মতো গুরুতর সমস্যাও হতে পারে। এতে রক্তচাপ আচমকা কমে যায়, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো উপসর্গ দেখা দেবে।
এগ্জ়িমা বা সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগ আগে থেকেই থাকলে বা ত্বক খুব সংবেদনশীল হলে, ঘন ঘন চুলে রং করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।