অশান্তির পরে গিরিশ পার্ক এলাকা। —ফাইল চিত্র।
গিরিশ পার্কের ঘটনায় কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী ডাকা হয়নি, তার কোনও উল্লেখ নেই পুলিশের রিপোর্টে। নির্বাচন কমিশন বুধবার পুলিশ রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। গত শনিবার (১৪ মার্চ) বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশের দিনে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে ওই অশান্তির ঘটনা নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে আবার রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রে খবর, পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়েছে কত এফআইআর হল, কত জন গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু আগাম সতর্কতা কী ছিল, এক ঘণ্টা ধরে অশান্তি চললেও কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী ডাকা হয়নি, তার উল্লেখ নেই। সেই কারণে আবার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, শনিবারের ওই ঘটনার পরেই অভিযোগ উঠেছিল, সঠিক সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকা হয়নি। কিন্তু মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার অজয়কুমার নন্দ সেই অভিযোগ খারিজ করে জানান, ওই ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে কলকাতা পুলিশ যথেষ্ট দক্ষ। সেই সঙ্গে তাঁর যুক্তি, মন্ত্রী শশীর বাড়ির সামনে অশান্তির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী কাছাকাছি কোথাও ছিল না।
প্রসঙ্গত, শনিবার বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশমুখী একাধিক বাসের উপরে হামলার ঘটনা ঘটে গিরিশ পার্ক এলাকায়। এলাকার বাসিন্দা তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশীর অনুগামীরা সেই হামলা চালাচ্ছিলেন বলে বিজেপির অভিযোগ। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ব্রিগেডমুখী বিজেপি কর্মীরা বিনা প্ররোচনায় অশান্তি তৈরি করেছিলেন। অশান্তিতে শশীর বাড়িও আক্রান্ত হয়। দু’পক্ষেরই বেশ কয়েক জন আহত হন। জখম হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্করও। ওই ঘটনা নিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। তাতে দাবি করা হয়েছে, অশান্তি হতে পারে বলে কলকাতা পুলিশের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, এই ভাবেই প্রত্যেক বার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ভোটের সময়ে পুলিশ অকেজো রাখে। প্রসঙ্গত, শনিবারের ঘটনার পরেই কলকাতা পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল কমিশন। তখন পুলিশ কমিশনার পদে ছিলেন সুপ্রতিম সরকার। সোমবার তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয় কমিশন।