Kidney Disease

গরমে ব্যথানাশক ওষুধ বেশি খেলেই বিপদ! বিকল হতে পারে কিডনি, সতর্ক করলেন গবেষকেরা

ব্যথানাশক ওষুধ বেশি খাওয়া এমনিতেই ভাল নয়। গরমের সময়ে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করলেন গবেষকেরা। অত্যধিক এমন ওষুধ খেলে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৬:৫৫
Share:

গরমে কোন কোন ওষুধ খেলে কিডনি বিকল হতে পারে? ছবি: ফ্রিপিক।

কিডনির রোগের জন্য দায়ী হতে পারে ব্যথানাশক ওষুধ, এমন দাবি করেছেন গবেষকের। সম্প্রতি পাবমেড থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, গরমের সময়ে অত্যধিক মাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধ খেলে তা কিডনির রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ‘নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ’ (এনএসএআইডি) গোত্রের যে সব ওষুধ আছে, সেগুলি বেশি ডোজ়ে খেতে শুরু করলে কিডনির ক্ষতি হবে। একই দাবি জনস হপকিন্স মেডিসিনেরও।

Advertisement

কিডনির রোগ জীবনধরার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত এক সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক্রনিক কিডনির রোগ এ দেশে প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। তার কারণ যেমন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, তেমনই ভুলভাল ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা। সাধারণত কিডনির সমস্যা দু’টি কারণে হতে পারে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিসের সমস্যা থেকে কিডনির ক্ষতি হয়। একে বলে ‘ক্রনিক কিডনি ডিজ়িজ়’। তা ছাড়া, কোনও সংক্রমণ থেকে, দুর্ঘটনায় চোট পাওয়ার কারণে কিংবা অতিরিক্ত কোনও ওষুধ নেওয়ার ফলেও কিডনির সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি’। সে সব ওষুধের তালিকায় ব্যথানাশক ওষুধের নামই আগে আসবে।

ব্যথানাশক ওষুধের সঙ্গে কিডনির রোগের কী সম্পর্ক?

Advertisement

গরমকালে পেশিতে টান ধরা বা মাথাব্যথার সমস্যা বেশি হয়। আর ব্যথা হলেই চট করে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলার প্রবণতা অনেকেরই আছে। রোদে বেরিয়ে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলেও ওষুধ খেতে হয় অনেককেই। তা ছাড়া এই সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। পেটের সমস্যাও হয় ঘন ঘন। রোগ যেমনই হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ওষুধ খেয়ে ফেলার অভ্যাস এখন অনেকেরই। গুগ্‌লে বা চ্যাটবটে খোঁজাখুঁজি করে ব্যথানাশক ওষুধের নাম বার করে তা কিনে খাচ্ছেন অনেকেই। আর এই অভ্যাসের কারণেই বিপদ ঘনাচ্ছে। গবেষকেরা বলছেন, কোন ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ কাদের শরীরের জন্য উপযুক্ত, তা না জেনেই ওষুধ খাওয়া হচ্ছে। আর এই সব ওষুধ শরীরকে আরও বেশি জলশূন্য করে তুলছে।

কিডনির কাজ শরীরের রক্ত শোধন করা। তীব্র গরমে ঘামের মাধ্যমে জল বেরিয়ে যাওয়ায় রক্তচাপ কমে যায়। কিডনি তখন প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের সাহায্যে নিজের রক্তনালিগুলিকে প্রসারিত করে রক্তপ্রবাহ সচল রাখে। ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমতে থাকে এবং অক্সিজেনের অভাবে কিডনির কোষগুলির ক্ষতি হতে থাকে।

উচ্চ তাপমাত্রায় শরীরের বিপাকীয় হার পরিবর্তিত হয়। এই অবস্থায় ব্যথানাশক ওষুধগুলি কিডনিতে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি করে। ওষুধের ঘনত্ব রক্তে বেশি থাকলে সেগুলি কিডনি আর ছেঁকে বার করে দিতে পারে না। ফলে কিডনি বিকল হতে শুরু করে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

হার্টের রোগী, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবিটিস আছে, এমন রোগীদের ঝুঁকি এ ক্ষেত্রে বেশি। হরমোনের চিকিৎসা চলছে বা হরমোনের ওষুধ খাচ্ছেন যাঁরা, তাঁরা যদি ব্যথানাশক ওষুধ বেশি খান, তা হলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার সমস্যা যদি এমনিতেই বেশি থাকে বা শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ঘাটতি থাকে, তা হলে ব্যথানাশক ওষুধ বেশি খেলে বিপদ হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement