জিলিপির সঙ্গে রাবড়ি খেয়ে পক্ষাঘাত, মিষ্টি খেলেই কেন অসাড় হচ্ছে হাত-পায গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ঠান্ডা রাবড়ির সঙ্গে গরম মুচমুচে জিলিপি মাখিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। যদিও এই মিষ্টির মিলমিশ অবাঙালি সুলভ, তবে বাঙালিরাও এ ‘ফিউশন’ হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন। অনেক বাঙালি বিয়েতেও মিষ্টির এমন মিলমিশ চোখে পড়ে। কখনও গরম গোলাপজামের সঙ্গে ঠান্ডা ক্ষীর বা আইসক্রিম, আবার কখনও জিলিপির সঙ্গে মাখা মাখা ক্ষীর। তবে মিলমিশ যেমনই হোক, তৃপ্তি যে ষোলোআনা হয়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু মিষ্টির এমন যুগলবন্দিই যে পক্ষাঘাতের কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা কি জানা ছিল? হায়দরাবাদের বছর তেত্রিশের এক যুবকের সঙ্গে এমনই হয়েছে। এক বার হয়, তিন তিন বার। জিলিপির সঙ্গে রাবড়ি খাওয়ামাত্রই তাঁর হাত-পা অসাড় হয়েছে, পক্ষাঘাত দেখা দিয়েছে ঘণ্টাখানেকের জন্য।
জিলিপি-রাবড়িতে বিপদ!
বিপদ ঠিক মিষ্টিতে নয়। আসল কারণ আশ্চর্যজনকই বটে। চিকিৎসকেরা ওই যুবককে পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, যত বারই তিনি গোগ্রাসে মিষ্টি খেয়েছেন, ঠিক তত বারই তাঁর হাত-পায়ে খিঁচুনি হয়েছে, তার পর অন্তত ঘণ্টাখানেকের জন্য হাত-পায়ের সাড় চলে গিয়েছে। শরীরের এক দিক বা উভয় দিকই পক্ষাঘাতের মতো অসাড় হয়েছে। এর কারণ হল এক বিশেষ রোগ, ‘হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস’।
রোগটি বিরলই বলা চলে। বংশগত বা জিনগত ভাবে হতে পারে। শরীরে পটাশিয়ামের এমন ঘাটতি হয় যে, পেশি আর কাজকর্ম করতে পারে না। সাধারণত শরীরের পেশি সচল রাখতে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাত্রা যদি বিপদসীমার নীচে নেমে যায়, তখনই পেশির সক্রিয়তা কমে যায়। পেশির সঙ্কোচন-প্রসারণ সাময়িক ভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘এপিসোডিক প্যারালাইসিস’। অর্থাৎ, সাময়িক ভাবে শরীর অসাড় হয়ে যাওয়া। ফের পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ দিয়ে রোগীকে সুস্থ ও সচল করে তোলা হয়।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ‘হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস’ যাঁদের থাকে, তাঁদের মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট বুঝেশুনে খেতে হয়। এক বারে অনেকটা কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা রক্তে মিশে গেলে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা আচমকা কমিয়ে দেয়। এর ফলে রক্তে পটাশিয়াম আশঙ্কাজনক ভাবে কমতে থাকে, যা পক্ষাঘাতের কারণ হয়ে ওঠে।
কাদের হয় এই রোগ?
বংশে এ রোগের ইতিহাস থাকলে হতে পারে। পুরুষদের এ রোগের তীব্রতা বেশি। হাইপোথাইরয়েডিজ়ম যাঁদের আছে, তাঁদেরও এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সাধারণত রাতে ঘুমোনোর সময় বা ভারী খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রোগের উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। শ্বাসকষ্ট বা কথা বলতে অসুবিধা হয়, হাত-পা নাড়তে সমস্যা হয়। আক্রান্ত অবস্থায় দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট দিতে হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, রোগটি থাকলে কার্বোহাইড্রেট যেমন কম খেতে হবে, তেমনই প্রচণ্ড পরিশ্রম করা বা মানসিক চাপ নেওয়া বন্ধ করতে হবে।