ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট টানা কত দিন খাওয়া যেতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।
রোদের অভাব নেই, তবু ভারতের মতো দেশে ভিটামিন-ডির ঘাটতিতে ভোগেন কিশোর থেকে বয়স্কদের অনেকেই। আবার সেই ঘাটতি মেটাতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে হাঁটু বা কোমরে ব্যথা হলেই যথেচ্ছ ভাবে ভিটামিন ডি খাওয়া চলে কি? একটানা কত দিনই বা খাওয়া যায়?
ভিটামিন শরীরের জন্য উপকারী, এ কথা সকলেই জানেন। তবে তা বেড়ে গেলে কী হতে পারে, তা নিয়ে সচেতনতা অনেক কম, বলছেন চিকিৎসকেরাই। ভিটামিন ডি-র অভাবে যেমন হাড় ভঙ্গুর হতে পারে, অবসাদ দেখা দিতে পারে, তেমনই ভিটামিন ডি-র মাত্রা যদি খুব বেশি বেড়ে যায়, তা কিডনি বা হার্টের সমস্যাও হতে পারে। মুম্বই নিবাসী চিকিৎসক বিমল পাহুজা জানাচ্ছেন, রক্তে প্রতি মিলিলিটারে ৩০ ন্যানোগ্রামের বেশি ভিটামিন ডি থাকলেই, তা যথেষ্ট। কোনও কারণে, সেই মাত্রা যদি ১০০-১৫০ ন্যানোগ্রামে পৌঁছোয়, অনিবার্য ভাবে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেড়ে যায় কিডনি স্টোনের ঝুঁকি। দেখা দেয় আরও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা।
মুম্বইয়ের এক হাসপাতালের ডায়াবিটিসের চিকিৎসক ভেঙ্কটেশ শিবানীর কথায়, ‘‘ভারতের মতো দেশে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি চিন্তার কারণ অবশ্যই, তবে এখন অনয়ন্ত্রিত ভাবে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া আরও বেশি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।’’
এন্ড্রোক্রাইন সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া এবং আইসিএমআর-এনআইএন-এর পরামর্শ অনুযায়ী, এক জন প্রাপ্তবয়স্ক দিনে ৬০০-৮০০ আইউ মাত্রার সাপ্লিমেন্ট দিনে নিতে পারেন। সর্বোচ্চ তা ৪০ হাজার আইউ হতে পারে, তবে তার চেয়ে বেশি কিন্তু নয়। ফলে দিনে যদি কেউ ৫০ হাজার আইউ এর মাত্রায় টানা কয়েক সপ্তাহ ভিটামিন ডি খান, সমস্যা দেখা দেওয়াটাই স্বাভাবিক।
অনেকেই ভাবেন, ভিটামিন বেশি হলে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেড়িয়ে যায়। তাই মাত্রা নিয়ন্ত্রণের দরকার নেই। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, মোটেই তা নয়। তা ছাড়া, প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন শরীরে বাড়তি কোনও উপকারও করে না। উল্টে প্রতি মিলিগ্রাম রক্তে ৪০ ন্যানোগ্রাম ভিটামিন ডি থাকলেই ক্যালশিয়ামের মাত্রা বাড়তে পারে। বাড়তি ভিটামিন শরীরের কোনও কাজে লাগে না। বরং বাড়তি ক্যালশিয়াম শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে না বেরিয়ে যদি অন্য উপাদানের সঙ্গে জমাট বাঁধে, তা হলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি দেখা যেতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উচ্চ মাত্রায় টানা ভিটামিন ডি খেলে হাইপারক্যালশেমিয়া হতে পারে। এতে ক্যালশিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। তার জেরেই হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে, মস্তিষ্কেরও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসক বিমল জানাচ্ছেন, কখন কখনও রোগীদের কেউ কেউ এক বা দুই সপ্তাহের বদলে, ভাল হবে ভেবেই ধারাবাহিক ভাবে তা খেতে শুরু করেন। বিপদ হয় তখনই।
চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, ভিটামিন ডি-র মাত্রা পরীক্ষা না করে নিজের ইচ্ছামতো সাপ্লিমেন্ট খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। বড় জোর ১০০০ বা ১৫০০ আইউ-এর সাপ্লিমেন্ট বেশ কিছু দিন খাওয়া যেতে পারে। বিমল বলছেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে ভিটামিন ডি-র মাত্রা পরীক্ষার পরে নির্দিষ্টি সাপ্লিমেন্ট ৮-১২ সপ্তাহ পর্যন্ত খেতে বলা হয়। তার পরে আবার পরীক্ষার দরকার পড়ে।’’
ভিটামিন ডি-র মাত্রা বেশি হলে কোন উপসর্গ দেখা দিতে পারে
· ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া।
· গলা শুকিয়ে যাওয়া, জল তেষ্টা বাড়তে পারে।
· তলপেটে ব্যথা হতে পারে।
· হাড়-কোমরে ব্যথা হতে পারে।