মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এল অ্যান্ড টি-র চেয়ারম্যান এস এন সুব্রহ্মণ্যম। ছবি: মুখ্যমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডল থেকে।
রাজ্যে বড় শিল্প আনার লক্ষ্যে এগোচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই লক্ষ্যে শনিবার লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এল অ্যান্ড টি)-র চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এন সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। শিল্প-পরিকাঠামো থেকে শুরু করে বিনিয়োগ-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয় দু’জনের।
নির্মাণ, প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে এই বহুজাতিক সংস্থা। প্রতিরক্ষা-শিল্পক্ষেত্রেও ছাপ ফেলতে শুরু করেছে তারা। শুক্রবার গুজরাতের হাজ়িরায় সংস্থার এক প্রতিরক্ষা-শিল্পকেন্দ্র পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয় তাঁর। ঘটনাচক্রে, তার এক দিন পরেই কলকাতা বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গেও শিল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সারলেন এল অ্যান্ড টি চেয়ারম্যান।
শনিবার সুব্রহ্মণমের সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয় শুভেন্দুর। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তিনি লেখেন, “এই ৩০ মিনিটের আলোচনায় আমরা মূলত পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার উপরে জোর দিয়েছি। রাজ্যের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি উন্নত শিল্প-পরিকাঠামো গড়ে তোলা, বিনিয়োগ টানা এবং অর্থনৈতিক বিকাশে আরও গতি আনার বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্যে প্রভূত সম্ভাবনাময় দিক রয়েছে। শিল্পপতিদের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় এ রাজ্যের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।
পূর্বতন সরকারের জমানায় রাজ্যের দৃশ্যত এক শিল্পবিমুখ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল। সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা তৈরির বিরোধিতা করে, জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। সেই থেকে গত দেড় দশকে রাজ্যে কোনও বড়, ভারী শিল্প আসেনি। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই শিল্প ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি উন্নত করতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপির সরকার। দু’দিন আগেই গত বুধবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন গৌতম আদানির পুত্র করণ আদানি। এ বার এল অ্যান্ড টি-র চেয়ারম্যান সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে শিল্প-আলোচনা সারলেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার যে শিল্পের হাল ফেরানোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই আভাস মিলেছে বিজেপির দলগত অবস্থানেও। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার ফের টাটা গোষ্ঠীকে হুগলিতে ফিরিয়ে আনতে চায়। পশ্চিমবঙ্গ যে বিনিয়োগবান্ধব এবং বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, সেই বার্তাও দেন তিনি।