Mamata Banerjee Meeting

ফিরহাদের ইস্তফার পরবর্তী পদক্ষেপ কী? স্থির করতে দিল্লিযাত্রার আগেই কলকাতার সব তৃণমূল কাউন্সিলরকে নিয়ে বৈঠক ডাকলেন মমতা

গত শুক্রবার কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা দেন ফিরহাদ। তার পরে পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়ে দেয় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। মেয়রের ইস্তফার পরে কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ২২:২৪
Share:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে এ বার বৈঠক ডাকলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ ছাড়ার পরে পরবর্তী মেয়র কে হবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পুরবোর্ড ভেঙে যাবে কি না, সেই প্রশ্নও উঁকি মারতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় রবিবার বিকেল ৪টেয় কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডাকলেন মমতা। সূত্রের খবর, পুরসভায় তৃণমূলের পরবর্তী দলনেতার নাম স্থির করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠকে কত জন কাউন্সিলর যোগ দেবেন, তা নিয়েও সংশয় রয়ে যাচ্ছে।

Advertisement

গত শুক্রবার কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা দেন ফিরহাদ। তার পরে পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়ে দেয় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। মেয়রের ইস্তফার পরে কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়। উল্লেখ্য, ফিরহাদের ইস্তফার পরে অন্য কাউকে মেয়র হিসাবে বসায়নি তৃণমূল। সে নিয়ে কোনও আবেদনও করা হয়নি বলে সূত্রের খবর।

এ অবস্থায় রাজ্য সরকার মনে করছে, মেয়রের পদত্যাগের ফলে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হতে পারে। নাগরিক পরিষেবাও বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়েছে তারা। সেখানে বলা হয়েছে, কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০-এর ১১৭(১) ধারায় রাজ্য সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনও পুরসভা তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়, ধারাবাহিক ভাবে কর্তব্যে গাফিলতি করে অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তা হলে সরকার তাকে অযোগ্য বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলে ঘোষণা করে পুরসভা ভেঙে দিতে পারে। এ অবস্থায় কলকাতা পুরসভা বোর্ড ধরে রাখতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে তৃণমূলের রবিবারের বৈঠকে।

Advertisement

সোমবার দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক রয়েছে। তৃণমূলের নির্বাচনী ভরাডুবির পর এটিই ‘ইন্ডিয়া’র প্রথম বৈঠক। তার জন্য রবিবারই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা মমতার। তবে তার আগে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক সেরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তৃণমূলনেত্রীর।

খাতায় কলমে কলকাতায় তৃণমূলের ১৩৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কত জন রবিবারের বৈঠকে যোগ দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, নির্বাচনী ভরাডুবির পরে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের অন্দরে এক বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। গত রবিবার মমতার ডাকা বৈঠকে গরহাজির ছিলেন তৃণমূলের ৬০ বিধায়ক। পরে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থক নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এ অবস্থায় রবিবার মমতার ডাকা বৈঠকে কত জন কাউন্সিলর থাকবেন, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে।

উল্লেখ্য, ফিরহাদের উত্তরসূরি হিসাবে যিনিই দায়িত্ব গ্রহণ করুন না কেন, তিনি হাতে সময় পাবেন প্রায় ৬ মাস। অন্যদিকে সরকারের নোটিস অনুযায়ী, পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার যে সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে, তা-ও সর্বোচ্চ ছ’মাসের জন্য করা যেতে পারে। তার বেশি নয়। এমতাবস্থায় রবিবারের বৈঠকে কত জন উপস্থিত থাকেন এবং কী কী বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়— সে দিকে নজর থাকবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement