গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে আরও এক জনকে গ্রেফতার করল সিবিআই। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে পাক়ড়াও করা হয়েছে ওই অভিযুক্তকে। ধৃতের নাম জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ ওরফে মনু। তাঁকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা।
চন্দ্রনাথ-হত্যার তদন্তে এর আগেও উত্তরপ্রদেশ থেকে একাধিক অভিযুক্ত পাকড়াও হয়েছেন। বালিয়া জেলারই বাসিন্দা রাজকুমার সিংহ নামে এক অভিযুক্ত ধরা পড়েন গত মাসে। তাঁর খোঁজে প্রথমে দিল্লিতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। কিন্তু দিল্লির আস্তানায় তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে উত্তরপ্রদেশের ছাপ্পরে একটি টোল প্লাজ়ার কাছ থেকে ধরা হয় রাজকুমারকে। তার পরের দিনই বিনয় রায় নামে এক অভিযুক্তকে বারাণসী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ বার চন্দ্রনাথ-হত্যার তদন্তে বালিয়া থেকেই গ্রেফতার হলেন জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ।
ধৃত অভিযুক্ত বালিয়ার শীতলদাবানি গ্রামের বাসিন্দা। অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আধিকারিক সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, ধৃতের বিরুদ্ধে ১২টি ফৌজদারি মামলা চলছে। চন্দ্রনাথ হত্যার মামলাতেও অন্যতম অভিযুক্ত তিনি। ২০২৩ সালে উত্তরপ্রদেশের এক থানায় ‘গ্যাংস্টার অ্যাক্ট’-এর আওতায় মামলা রুজু হয় জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় তিনি আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ২৫ মে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। গত বৃহস্পতিবার তিনি বালিয়ার এক আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তখন তাঁকে মউ জেলে পাঠানো হয়। এ বার মউ জেলা সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপকে নিজেদের হেফাজতে নিল সিবিআই। স্থানীয় আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জীব সিংহ জানান, বারাসত আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে সিবিআই।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর ঠিক দু’দিন পর গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের রাস্তায় এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে খুন করা হয় শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। চালকও জখম হন গুলিতে। বাইকে করে এসে তাঁদের গুলি করে পালান আততায়ীরা। কিছু ক্ষণের মধ্যে চন্দ্রনাথদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাক্রমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছিল রাজ্যের পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-ও গঠন করা হয়েছিল। পরে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার যায় সিবিআই-এর হাতে।