উদ্ধার হওয়া সার, কীটনাশক। —নিজস্ব চিত্র।
কৃষকদের জন্য সরকারের বরাদ্দ সার, কীটনাশক মজুত করে রেখেছিলেন নিজের বাড়িতে। এমন অভিযোগ উঠতেই তৎপর হয় পুলিশ। অভিযোগ, এর পরই সার, কীটনাশক পাশের ক্লাবে সরিয়ে ফেলেন। তার পরই এলাকা ছাড়েন নদিয়ার কল্যাণী ব্লকের সগুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মিনতি রায়।
সগুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মিনতি। অভিযোগ, সরকারি গুদাম থেকে স্থানীয় কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার, কীটনাশকের বস্তা নাকি নিজের বাড়িতে মজুত করে রেখেছিলেন তিনি। স্থানীয়দের অনেকেরই দাবি, তাঁরা মিনতির বাড়িতে বস্তা বস্তা সার, কীটনাশক ঢুকতে দেখেছেন। সেই অভিযোগ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য শুরু হতেই গা ঢাকা দেন মিনতি।
খবর পেয়ে শান্তিনগর এলাকায় আসে পুলিশ। প্রথমে স্থানীয় তৃণমূলনেত্রী মিনতির বাড়িতে যায় তারা। তবে সেখানে কিছুই মেলেনি। যদিও পাশের ক্লাবে বস্তা বস্তা সার, কীটনাশকের হদিস পায় পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, শনিবার দুপুরে তাঁরা দেখেছেন মিনতি নিজের বাড়ি থেকে বস্তাগুলি সরিয়ে ক্লাবে রাখছেন। সেই বিষয় প্রকাশ্যে আসতেই ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয়েরা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ক্লাব থেকে সার, কীটনাশক বাজেয়াপ্তও করেছে তারা।
জেলা কৃষি দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের সরকারি অনুদানের সামগ্রী সরাসরি উপভোক্তাদের হাতে দেওয়ার কথা। কোনও জনপ্রতিনিধির বাড়িতে তা মজুত করার এক্তিয়ার নেই। এই ঘটনায় পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে এলাকাবাসী। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এর নেপথ্যে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা পুলিশি তদন্তেই পরিষ্কার হবে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।