Adhir Chowdhury

পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি সম্পর্কে অধীরের থেকে খোঁজখবর নিলেন রাহুল! কী কী জানালেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের। এক মাসের মধ্যেই দলের মধ্যে বিদ্রোহ এবং ভাঙন। ভেঙে গিয়েছে তৃণমূলের পরিষদীয় দলই। সই-কাণ্ড নিয়ে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ২২:১৭
Share:

(বাঁ দিকে) রাহুল গান্ধী এবং অধীর চৌধুরী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন? রাজনৈতিক অবস্থা কোনও পর্যায়ে দাঁড়িয়ে? এমন নানা বিষয় নিয়ে কথা হল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর। বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ জানান, এ রাজ্যের হালহকিকত তাঁর থেকে জানতে চেয়েছিলেন রাহুল। সেই সম্পর্কের তথ্য দিয়েছেন অধীর। শুধু তা-ই নয়, তৃণমূলের নিচুতলার সৎ এবং নির্ভীক কর্মীদের জন্য যে কংগ্রেসের দরজা খোলা, তা-ও রাহুলকে জানিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ।

Advertisement

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের। এক মাসের মধ্যেই দলের মধ্যে বিদ্রোহ, ভাঙন। ভেঙে গিয়েছে তৃণমূলের পরিষদীয় দলই। সই-কাণ্ড নিয়ে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। সেই অবস্থায় তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন অধীর। সেই বিষয় উল্লেখ করে কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘‘রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি জানতে চাইছিলেন। অবস্থা কেমন? আমি জানালাম। আগের সরকারের নেতাদের উপর মানুষের ক্রোধ, অভিযোগ প্রতিফলিত হচ্ছে।’’

অধীরের কথায়, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেস থেকে কংগ্রেস তৈরি হয়েছে। এখন তৃণমূলের কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীরা যাঁরা সততার সঙ্গে দল করেছেন, তাঁদের কাছে আবেদন করেছি কংগ্রেসে ফিরে আসুন। কংগ্রেসের দরজা খোলা আছে। এই কথা আমি রাহুলজিকে বলেছি।’’ তিনি আশাবাদী, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নিশ্চয় কংগ্রেস একটা জায়গা পেতে চলেছে। আর সেই জন্য ঝাঁপাতে হবে কংগ্রেসকে।

Advertisement

নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হতেই টানাপড়েনে তৃণমূলে। একের পর এক নেতা ‘বেসুরো’ হচ্ছেন। তাঁদের সিংহভাগ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। পাশে পেয়েছেন ৫৮ তৃণমূল বিধায়ককে। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে দাবি করে রেখেছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। শুধু পরিষদীয় দলে নয়, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙনের জল্পনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দেবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক। সেই বৈঠকে কংগ্রেসের হয়ে থাকতে পারেন রাহুলও। ভোটে তৃণমূলের হারের পর মমতার সমর্থনে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চ়ড়িয়ে পোস্ট করেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে কংগ্রেস এবং তৃণমূল জোটে থাকলেও রাজ্যস্তরে সেই ‘বন্ধন’ নেই। এ রাজ্যের কংগ্রেস নেতানেত্রীরা প্রায়শই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব। সেই তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছেন অধীর। সোমবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকের আগে তাঁর থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হলেন রাহুল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement