শওকত মোল্লাকে হেফাজতে নিতে চায় এনআইএ। —ফাইল চিত্র।
ভাঙড়ে বিস্ফোরণের পর তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক তথা ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী ফোনে কাউকে নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে গ্রেফতারির পর মোবাইল থেকে সেই সংক্রান্ত তথ্য মিলেছে। আদালতে এমনই দাবি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। পাল্টা শওকতের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের সঙ্গে বিস্ফোরণকাণ্ডের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি জনপ্রতিনিধি ছিলেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর পক্ষে এমন কাজ কী ভাবে সম্ভব?
বিধানসভা ভোটের মুখে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ মামলার সূত্রে বৃহস্পতিবার রাতে শওকতকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। তাঁকে মূল ষড়যন্ত্রকারী বলছেন গোয়েন্দারা। শনিবার দুপুরে শওকতকে হাজির করানো হয়েছিল কলকাতা নগর দায়রা আদালতে। তদন্তের স্বার্থে শওকতকে নিজেদের হেফাজতে চায় এনআইএ। আদালতে জানানো হয়, একটি পেন ড্রাইভ এবং মোবাইল বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অন্য দিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আবেদন করেন জামিনের।
বিস্ফোরণ মামলার অভিযোগকারী আসাদুল মোল্লা জানান, বোমার আওয়াজ শুনে তিনি পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। তার পরে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সেই মামলা হাতে নিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এখন এনআইএ বলছে, শওকতের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু বিস্ফোরণ মামলায় শওকতের জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধৃতের আইনজীবী সুমন দাস। দাবি করা হয়, সে দিন বিস্ফোরণস্থল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন শওকত। তিনি কোনও ভাবে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। শওকতের আইনজীবী আদালতে এ-ও জানান, ঘটনার সময় তাঁর মক্কেল বিধানসভার সদস্য ছিলেন। তিনি জ়েড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন। তাঁর পক্ষে কী ভাবে এই বিস্ফোরণে যুক্ত থাকা সম্ভব?
পাল্টা এনআইএর আইনজীবী শ্যামল ঘোষ বলেন, ‘‘প্রাথমিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্তরে রয়েছে তদন্ত। এই মুহূর্তে এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সমস্তটা সর্বসমক্ষে আনতে চাইছি না আমরা। সিডিআর দেখা হয়েছে।’’ আদালতে বলা হয়, ঘটনার পর ‘টাইম টু টাইম’ যোগাযোগ করেছিলেন শওকত। তাঁর নির্দেশ মেনেছিলেন অভিযুক্তেরা। তাই তদন্তের স্বার্থে ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে শওকতকে।
শেষমেশ আদালত আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত শওকতকে এনআইএ হেফাজতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত থেকে বার হওয়ার সময় শওকত দাবি করেন, তিনি নির্দোষ।