(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
তৃণমূল পরিষদীয় দল ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে ৫৯ জন বিধায়ক তাদের দলনেতা বেছে নিয়েছেন। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা বেছে নিয়েছেন তৃণমূলের ওই বিদ্রোহী বিধায়কেরা। কিন্তু দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক করে দেওয়া বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়েও দান ছেড়ে দেওয়ার খেলোয়াড় নন। গত ৬ এবং ১৯ মে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে যে বৈঠক করেছিলেন নেত্রী মমতা, শনিবার সকালে তার নথি প্রকাশ করে দিয়েছেন শোভনদেব। এমতাবস্থায় প্রকৃত বিরোধী দল কোন পক্ষ, তা প্রমাণ করতে ‘আস্থা ভোট’ করাতেই পারেন স্পিকার রথীন্দ্র বোস। এমনটাই খবর বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের ভাঙন প্রসঙ্গে জবাব দিতে গিয়ে প্রথম ‘আস্থা ভোটের’ কথা বলেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেছিলেন, ‘‘বিধানসভার অধিবেশনে তৃণমূল পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাদের পক্ষে রয়েছে, তা প্রমাণ করার সুযোগ দিলেই প্রকৃত সত্য প্রকাশ্যে চলে আসবে।’’ তবে ভারতীয় গণতন্ত্রে কোনও দিনও এমন পরিস্থিতি আগে আসেনি। সব ক্ষেত্রে শাসক পক্ষকে ‘আস্থা ভোটে’ অংশ নিতে হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভার প্রকৃত বিরোধী কে, তা জানতে যদি আস্থা ভোট হয়, তবে তা হবে ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।
আগামী ১৮ জুন রাজ্যপাল আরএন রবির বক্তৃতা দিয়েই শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের বাজেট অধিবেশন। ওই সময় যদি শোভনদেবের পক্ষে থাকা বিধায়কেরা নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে আস্থা ভোটের দাবি তোলেন, সেক্ষে ত্রে স্পিকার তাঁদের দাবি মেনে আস্থা ভোট করাতেই পারেন। তবে তাঁদের হাতে জাদু সংখ্যা নেই বলেই জানাচ্ছে তৃণমূলের একটি সূত্র। কারণ, মমতার ডাকা একের পর এক বৈঠকে হাজির থাকা বিধায়কের সংখ্যা কমেছে। শুক্রবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে যে বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল, তাতে মাত্র আট জন বিধায়ক উপস্থিত হয়েছিলেন বলেই জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, ঋতব্রতের কাছে ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠির পাশাপাশি, বিধায়কদের বড় অংশের সমর্থন রয়েছে। তাই আস্থা ভোট নিয়ে তাঁরা আদৌ চিন্তিত নন বলেই জানাচ্ছেন ঋতব্রত শিবিরের এক বিধায়ক। তাঁর কথায়, ‘‘মমতাদির বাড়ির বৈঠকে শেষ দিন আট জন বিধায়ক গিয়েছিলেন। আস্থা ভোট হলে ওই আট জন বিধায়ককেও একসঙ্গে রাখা যাবে না। তবে আস্থা ভোট হলে আমরা প্রস্তুত।’’
তৃণমূল সূত্রে খবর, মমতা স্বয়ং বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফের দলের মুখরক্ষা করতে চাইছেন। ইতিমধ্যে উদ্যোগী হয়ে বেশ কয়েক জন বিধায়ককে ফোনও করেছেন তিনি। তবে কারও থেকেই সদুত্তর পাননি। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে যদি মমতা-অভিষেক যদি পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিধায়কদের ঘরে ফেরাতে পারেন, তবেই শোভনদেবের নেতৃত্বে থাকা বিধায়করা আস্তা ভোটের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করবেন। তবে এ বিষয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘‘বিধানসভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী একমাত্র স্পিকার। তিনি যখন ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দিয়েছেন, তখন তার উপরে আর কোনও সিদ্ধান্ত হবে না বলেই আমি মনে করছি। কারণ, তৃণমূল বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে একসঙ্গে ৩০ জনের বেশি বিধায়ককে দলে ফিরিয়ে আনার মতো ক্ষমতা এখন ওদের নেই।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘আস্থা ভোট হোক বা না-হোক বিরোধী দলনেতার আসন থেকে তৃণমূল আগামী পাঁচ বছর ঋতব্রতকে সরাতে পারবে না।’’