ছবি: সংগৃহীত।
বিছানা হল সেই জায়গা, যেখানে দিনের শেষে আপনি গা এলিয়ে দেন। ক্লান্তি বোধ করলে বা অসুস্থ হলে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য আশ্রয় নেন। সুস্থ থাকার জন্য অতি জরুরি যে ঘুম, তা যাতে ভাল ভাবে হয়, তার নেপথ্য কারিগর সেই বিছানাই। যাঁরা প্রায়ই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা নানা সমাধান খোঁজার আগে দেখতে পারেন তাঁর বিছানাটি ঘুমোনোর উপযুক্ত তো? কারণ, ভাল ঘুমের নেপথ্যে বিছানারও অবদান থাকে।
বিছানার গঠনগত ত্রুটি অনেক সময় গভীর ঘুমের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই রাতে ভাল ঘুম নিশ্চিত করতে চাইলে বিছানায় কিছু বদল আনা জরুরি।
১. সঠিক গদি বা ম্যাট্রেস নির্বাচন: গদি খুব বেশি শক্ত বা খুব বেশি নরম হওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত নরম গদি মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট করতে পারে। তাতে পিঠ বা কোমরে ব্যথা হতে পারে। আবার খুব শক্ত গদি শরীরের অস্থসন্ধির উপরে চাপ সৃষ্টি করে। তাই শরীরের গঠন অনুযায়ী আরামদায়ক ম্যাট্রেস বেছে নিন।
২. বালিশের উচ্চতা ও ধরন: বালিশের উচ্চতা সঠিক না হলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে টান পড়তে পারে। যাঁরা চিত হয়ে ঘুমোন, তাঁদের জন্য পাতলা বালিশ এবং যাঁরা পাশ ফিরে ঘুমোন, তাঁদের জন্য কিছুটা উঁচু বালিশ উপযোগী। বালিশ যেন খুব শক্ত না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: বিছানার চাদর ও বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ঘাম, মৃত কোষ এবং ধুলিকণা থেকে বিছানায় পোকামাকড় বা ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে পারে, যা অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। তা থেকেও ঘুম ব্যাহত হতে পারে। প্রতি সপ্তাহে বা ১০ দিনে অন্তত এক বার চাদর বদলে ফেলাই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
৪. সঠিক কাপড়ের ব্যবহার: সুতির চাদর ঘুমের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। কারণ, তা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। সিন্থেটিক বা সিল্কের চাদর অনেক সময় শরীর অতিরিক্ত গরম করে ফেলে, যা অস্বাচ্ছন্দ্য তৈরি করে শরীরে। ফলে ঘুম কমতে পারে।
৫. বিছানার কোথায় রয়েছে: বিছানা এমন জায়গায় হওয়া উচিত, যেখানে সরাসরি আলো বা অতিরিক্ত শব্দ পৌঁছোতে না পারে। ঘরের জানলার সঙ্গে বিছানার সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন যাতে বাতাস চলাচল ভাল ভাবে হয় বাইরের শব্দ বা আলো এসে ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটাতে পারে।