ড্রাই মাউথ যখন বড় সমস্যা। ছবি: সংগৃহীত।
মাঝেমধ্যেই মুখ শুকিয়ে আসে, এমন সমস্যা অনেকেরই আছে। বারে বারেই জিভ শুকিয়ে যায়। বারে বারে জল খেলেও, তাতে সমস্যার সমাধান হয় না। জিভ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা খুব মারাত্মক নয়। যদিও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তা জটিল রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘ড্রাই মাউথ’। মুখের ভিতরে যে লালাগ্রন্থি থাকে, তা যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে লালারস তৈরি করতে না পারে, তখন জ়েরোস্টোমিয়া বা ড্রাই মাউথ হয়।
শরীরে যদি জলের ঘাটতি হয়, অর্থাৎ, জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হলে জ়েরোস্টোমিয়া হতে পারে। ভাইরাল জ্বর, ডায়েরিয়ার সমস্যাতেও শরীরে জলের ঘাটতি হয়। তখন মুখের ভিতরে ফুস্কুড়ি, জিভ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা বেশি হয়। কখনও কখনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় জ়েরোস্টোমিয়া হতে পারে। এ ছাড়া ডায়াবেটিকদেরও ড্রাই মাউথের সমস্যা হয়। আরও কিছু রোগ, যেমন এডস, পার্কিনসন্স ডিজ়িজ়, অ্যালঝাইমার্সেও ড্রাই মাউথের সমস্যা হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার আগে মুখ-জিভ শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় অনেকের। স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে।
কী ভাবে ড্রাই মাউথের সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন?
১) ড্রাই মাউথের সমস্যা দূর করতে হলে বেশি করে জল খতে হবে। দিনে ৭-৮ গ্লাস জল খেতেই হবে। কেবল জল নয়, বেশি করে জলীয় খাবার, যেমন জল, ডাবের জল, হার্বাল চা, দইয়ের ঘোল, স্যুপ, স্মুদি খেতে হবে।
২) ড্রাই মাউথের সমস্যা দূর করতে অয়েল পুলিংও করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মুখভর্তি তেল নিয়ে ঠোঁট দু’টি শক্ত করে চেপে রাখতে হয়। তার পরে তেল মুখের ভিতর থেকে বাইরের দিকে ঠেলতে হয়। আবার বাইরের দিক থেকে ভিতর দিকে টানতে হয়। এ ক্ষেত্রে দাঁতের ফাঁক দিয়ে তেল যাওয়া আসা করে। এর ফলেই দাঁত এবং মা়ড়ির উপকার হয়, মুখের ভিতরের শুষ্ক ভাব দূর হয়। তিলের তেল বা নারকেল তেলই এই কুলকুচিতে ব্যবহার করার কথা। তবে নারকেল তেল সবচেয়ে বেশি কাজ দেয়।
৩) ড্রাই মাউথের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে মৌরি খেতে পারেন। মৌরি চিবোলে লালা রসের উৎপাদন বাড়ে মুখের ভিতর। তাই দিনে ৩-৪ বার আধ চামচ মৌরি নিয়ে বেশ কিছু ক্ষণ ধরে চিবোতে থাকুন, উপকার পাবেন। মুখে আদার টুকরো বা এলাচ রাাখলেও একই উপকার পাওয়া যেতে পারে।