গরমেও গলা ব্যথা হচ্ছে, গলার খুশখুশানি ভাব কমাতে কোন পন্থা কাজে আসবে? ছবি:সংগৃহীত।
শীতকালে ঠান্ডা লেগে গলা ব্যথা, গলা খুশখুশ খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু গরমেও! ঠা ঠা রোদে ঘুরে বেড়িয়েও অনেকেই গলা ব্যথায় ভুগছেন। কেউ আবার এ জন্য দুষছেন এসির ঠান্ডাকে। চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেক সময় প্রচণ্ড রোদে দাঁড়িয়ে বরফ শীতল পানীয় খেলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। আবার এসি ঘরে শুলে, মুখ খুলে ঘুমোলে(নাক বন্ধ থাকলে বা নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে) বা এসির তাপমাত্রা খুব বেশি কমানো থাকলে গলা ব্যথা, গলা খুশখুশের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, মুখ খোলা থাকলে, মুখের আর্দ্রতা কমে যায়।শুষ্ক হয়ে যায় মুখগহ্বর। গলা শুকিয়ে সেখানে অস্বস্তি তৈরি হয়।
তবে প্রাথমিক ভাবে এমন সমস্যার সমাধান হতে পারে ঘরোয়া উপায়ে—
· সকালে উঠে জল নুন দিয়ে ফুটিয়ে বা অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল (মুখে ব্যবহারের জন্য) দ্রবণ গরম জলে মিশিয়ে গার্গল করুন।
· আদা দিয়ে ফুটিয়ে চা খান। গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারচিনি, আদা, তুলসী জলে ফুটিয়ে নিয়ে কাড়া বানিয়ে নিন। এর মধ্যে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। গরম পানীয়টি দিনে বার ২-৩ খেলেই গলা আরাম পাবে।
· গলা বেশি খুশখুশ করলে মুখে লবঙ্গ বা শুকনো আদা রাখুন। লবঙ্গ, আদা— দুইয়ের মধ্যেই ভেষজ গুণ রয়েছে, আছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদানও। ফলে এগুলি মুখে রাখলে, ধীরে ধীরে গলার অস্বস্তি কমে।
· গলা-মুখ যত শুকিয়ে যাবে, ততই কষ্ট বাড়বে। বার বার হালকা গরম জল খেতে পারেন। পাতিলেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হালকা গরম জলে পাতিলেবু মিশিয়েও দিনে এক বার খাওয়া যেতে পারে। তবে অম্বলের ধাত থাকলে এমন পানীয় খালি পেটে না খাওয়াই ভাল।
· গলা ব্যথার সঙ্গে মাথা ভার হয়ে থাকলে গরম ভাপ নিন। ফুটন্ত জলের যে ভাপ বেরোয়, সেটি গলায় টানুন বা মুখ হাঁ করে সেটি নিন। এতেও গলার ব্যথা কমবে। মাথা ভার হয়ে থাকলে নাক দিয়ে গরম ভাপ নিন। ধীরে ধীরে মাথা হালকা হবে।