খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম হলে ৩০-এর পরেও ক্ষয়ে যেতে পারে পেশি। ছবি:সংগৃহীত।
সুঠাম দৈহিক গড়ন পেতে অনেকেই জিমে যান। ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করেন। তবে শুধু দেহগত সৌন্দর্য নয়, ৩০-এর পরে পেশিক্ষয়ের সমস্যাও হতে পারে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া না করলে, নিজের যত্ন না নিলে। আর এক বার পেশি ক্ষয়ে যাওয়া মানেই ধীরে ধীরে শরীর দুর্বল হয়ে পড়া।
মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত অস্থিরোগের চিকিৎসক মনন ভোরা এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, ‘‘পেশিক্ষয় শুরু হতে পারে ৩০-এর পর থেকেই। তার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্যে। তবে একটি জিনিসের সাহায্যেই এর সমাধান হতে পারে।’’ চিকিৎসক জানাচ্ছেন, পেশি ক্ষয় হতে শুরু করলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যে তার প্রভাব পড়ে। এক দিকে পেশি ক্ষয়ে যায়, অন্য দিকে, বিপাকহার কমে গিয়ে শরীরে মেদ জমতে থাকে। সেই কারণেই ৩০-এর পর থেকে ওজন বৃদ্ধি, ভুঁড়ি হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞাননের পরিভাষায় পেশির ক্ষয় এবং কার্যশক্তি কমে যাওয়াকেই বলা হয় ‘সারকোপেনিয়া’। শুধু পেশি নয়, হাড়ও ভঙ্গুর হতে শুরু করে, যা বাইরে থেকে টের পাওয়া যায় না। ফলে দেখা যায়, সামান্য চোট বা আঘাতেই হাড় ভেঙে যাচ্ছে।
চিকিৎসকের কথায়, এমন সমস্যার সমাধান হতে পারে একটি অভ্যাসেই। তা হল ওজন নিয়ে ব্যায়াম। ওজন নিয়ে ব্যায়ামে পেশির কসরত বেশি হয়। ফলে পেশি শক্তেপাক্ত হয়, ক্ষয়ে যাওয়ার প্রবণতাও কমে। তবে মনন মনে করাচ্ছেন, ওজনের ব্যবহার সঠিক কায়দায় করা দরকার। পেশি সবল করতে হলে পেশিকে খাটাতে হবে। তাই ঠিকমতো ওজন বাছাই জরুরি।
তবে শুধু ব্যায়াম যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমের উপরেও জোর দিচ্ছেন চিকিৎসক। প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়া এবং ঠিকমতো ঘুম পেশি মজবুত রাখতে এবং শরীরচর্চার সময় আঘাতপ্রাপ্ত পেশির পুনরুজ্জীবনে সাহায্য করে। চিকিৎসক বলছেন, ওজন নিয়ে শরীরচর্চার কোনও সুনির্দিষ্ট বয়স হয় না। যে কোনও বয়সেই তা শুরু করা যায়।