আঁচিলের পরিবর্তনেই ক্যানসারের ইঙ্গিত? ছবি: সংগৃহীত।
শরীরের যে আঁচিল আপনার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী, হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে সেটিই মারণরোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। আঁচিলের নানাবিধ বদল থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মানুষের ত্বকের কোষ, মেলানোসাইটের কারণেই পিগমেন্টেশন অর্থাৎ নানাবিধ রং তৈরি হয়। অনেকগুলি মেলানোসাইটের বাড়বৃদ্ধির কারণেই আঁচিল তৈরি হয়। কিন্তু আঁচিলের কোষগুলি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে তখনই ক্যানসারের সম্ভাবনা তৈরি হয় ত্বকে। এই রোগকেই বলা হয় ‘ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা’। কিন্তু কী ভাবে বুঝবেন, আপনার শরীরের এই আঁচিল নিরীহ, না কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে? নির্দিষ্ট এক পদ্ধতিতে এই রোগের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিলেন ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়।
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, কিছু আঁচিল জন্মগতও হতে পারে। তবে যেগুলি পরবর্তীতে তৈরি হয়, সেগুলির মধ্যে কিছু কিছু আঁচিল ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ‘ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা’ এক প্রকার ত্বকের ক্যানসার। আঁচিলের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তনও এই রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই আগেভাগেই সতর্ক হতে হবে এ ক্ষেত্রে।
এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করার জন্য বিশেষ এক পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতির নাম, ‘এবিসিডিই’, অর্থাৎ ইংরেজি বর্ণমালার প্রথম পাঁচটি অক্ষর। মোট পাঁচটি পরিবর্তন লক্ষ ‘ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা’ শনাক্ত করা যায় সময় মতো।
এ (অ্যাসিমেট্রি)/ আঁচিলের আকারের অসামঞ্জস্য: সাধারণত আঁচিল গোলাকৃতি হয়। না হলেও প্রতিটি ধারের আকার ও আকৃতি সমান থাকে। কিন্তু যদি দেখা যায়, আঁচিলের একটি দিক হালকা বেঁকানো, অন্য দিক গোলাকার, বা এবড়োখেবড়ো, তা হলে সতর্ক হয়ে যাওয়া দরকার।
বি (বর্ডার)/ আঁচিলের প্রান্তে পরিবর্তন: আঁচিলের প্রান্ত যত দিন পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাবে, তত দিন দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। কিন্তু যে মুহূর্তে দেখবেন, প্রান্ত অসমান হতে শুরু করেছে, তখন সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
সি (কালার)/ আঁচিলের রং পরিবর্তন: আঁচিলের রং সাধারণত কালচে হয়। কিন্তু যদি হঠাৎ রং পরিবর্তন করতে শুরু করে, তা হলে উপেক্ষা করবেন না। যদি রং আরও কালচে হয়ে যায়, বা লালচে হতে থাকে, তা হলে শীঘ্র চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা দরকার।
ডি (ডায়ামিটার)/ আঁচিলের ব্যাস বৃদ্ধি: আচমকা আঁচিলের ব্যাস বৃদ্ধি পেতে থাকলে, তা ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। যদি দেখা যায় আঁচিলের ব্যাস ৪ মিলিমিটারের বেশি হয়ে গিয়েছে, তা হলে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে।
ই (ইভলভিং)/ আঁচিলের আকার বৃদ্ধি: ধরা যাক, বহু বছর ধরে আঁচি্লের আকার অপরিবর্তিত ছিল। কিন্তু সেটি যদি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে, তা হলে সাবধান হয়ে যেতে হবে। উপরের সমস্ত লক্ষণের সঙ্গে এটির ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।