পেশি ও স্নায়ুর ব্যথার পার্থক্য জানেন? ছবি: সংগৃহীত।
ব্যথাকে ভুল বোঝার ঘটনা সকলের সঙ্গেই একাধিক বার ঘটেছে। কোনও কোনও ব্যথা অন্য যন্ত্রণার সঙ্গে হুবহু মিলে যেতে পারে, অথচ তাদের কারণ ও ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে। এমন ভাবেই অনেক সময়ে ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসায় দেরি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শরীরের সমস্ত ব্যথা এক রকমের নয়। আপনি ভাবছেন, হয়তো আপনার পেশিতে টান লেগেছে। কিন্তু নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ। স্নায়ু এবং পেশির ব্যথার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, স্নায়ুর ব্যথা আর পেশির ব্যথা একেবারেই আলাদা। আর এই পার্থক্য না বুঝলে চিকিৎসাও ভুল পথে যেতে পারে। ব্যথার ধরনই বলে দেবে সমস্যা কোথায়। শরীরের সমস্ত ব্যথাকে এক রকম ভাবে না দেখে, তার ধরন বুঝে নেওয়া দরকার। কারণ, ঠিক জায়গায় সমস্যা চিহ্নিত করতে পারলেই দ্রুত আর সঠিক ভাবে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
স্নায়ু এবং পেশির ব্যথার কী পার্থক্য? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত
যদি স্নায়ুর ব্যথায় ভোগেন, তা হলে এ ক্ষেত্রে সাধারণত তীক্ষ্ণ, জ্বালাপোড়া ধরনের বা বিদ্যুতের শকের মতো অনুভূতি হয়। অনেক সময়ে এই ব্যথা এক জায়গায় থাকে না। হাত বা পা বেয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ঝিঁঝি ধরা, অবশ হয়ে যাওয়া, সুচ ফোটার মতো যন্ত্রণা বা দুর্বলতাও থাকতে পারে। শরীরের ভঙ্গি বদলালেও এই ব্যথা বাড়তে বা কমতে পারে। স্নায়ুর ব্যথা সাধারণত হয় স্নায়ু চাপে পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে হয়। যেমন স্লিপ ডিস্ক, কার্পাল টানেল ঘটিত সমস্যা বা ডায়াবিটিস জনিত স্নায়ুর সমস্যা।
অন্য দিকে পেশির ব্যথা অনেকটাই আলাদা। পেশির ব্যথা সাধারণত নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে এবং এটি মাংসপেশিতে টান বা চাপের কারণে হয়। বিশ্রাম নিলে বা মালিশ করলে কমেও যায়। যেখানে ব্যথা, সেখানেই চাপ দিলে যন্ত্রণা হয়। অনুভূতিটা অনেকটা যেন টান ধরার মতো। বেশি নড়াচড়া করলে বাড়ে, আর বিশ্রাম নিলে ধীরে ধীরে কমে যায়। পেশির ব্যথা হয় অতিরিক্ত চাপ পড়লে, বেশি কায়িক শ্রম হলে, ভুল ভঙ্গিতে শোয়া-বসা থেকে বা হঠাৎ টান পড়া বা ছোটখাটো চোটের কারণে।
একাটানা বসে থাকা বা ভারী কিছু তোলা অথবা ভুল ভঙ্গিতে কাজ করার ফলে পেশি ও স্নায়ু— উভয় ক্ষেত্রেই ব্যথা হতে পারে। তবে এদের মধ্যে মূল পার্থক্য হল, স্নায়ুর ব্যথা সাধারণত স্নায়ুর গঠনগত ক্ষতি বা ভিতরের কোনও সমস্যার কারণে হয়, যেখানে পেশির ব্যথা মূলত শরীরের যান্ত্রিক নড়াচড়া বা প্রদাহজনিত কারণে হয়ে থাকে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কিছু সতর্ক-সঙ্কেত। যদি ব্যথা এক জায়গা থেকে ছড়িয়ে যায়, সঙ্গে অবশ ভাব, ঝিঁঝি ধরা বা দুর্বলতা থাকে, তা হলে উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমনকি, শরীরের সমন্বয় নষ্ট হওয়া বা মল-মূত্রের বেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। সেটি নিছক পেশিতে টানের ব্যথা না-ও হতে পারে। সাধারণ পেশির ব্যথা বেশির ভাগ সময়ে বিশ্রাম, জল খাওয়া আর অল্প চিকিৎসাতেই কমে যায়। কিন্তু ব্যথা যদি দীর্ঘ দিন থাকে, খুব তীব্র হয় বা নড়াচড়া করাই কঠিন হয়ে পড়ে, তখন সেটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়।