Sugar Craving Control

চিনি ছাড়লেন, অথচ রোজ মিষ্টির জন্য মন কাঁদে! ৭ কৌশল মানলেই মুক্তি পাবেন সহজে

মিষ্টি ছাড়ার প্রথম তিন দিন যেন শরীর আর মনের এক অদ্ভুত টানাপড়েন চলে। হঠাৎ করেই বার বার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করছে বলে মনে হয়, মনমেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, কাজের প্রতি মন বসে না। কী ভাবে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমাবেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৪
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মিষ্টি খাওয়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যতটা সহজ মনে হয়, আদপে ততটা নয়। ধরা যাক, আপনি মিষ্টিপ্রেমী হিসেবে সুখ্যাত নন, তার পরেও নানা ভাবে শরীরে চিনি প্রবেশ করে। সেই অভ্যাসকে পুরোপুরি ত্যাগ করতে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আর সেখানেই বিপাকে পড়ার ঝুঁকি। কী ভাবে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন জানেন?

Advertisement

বিশেষ করে মিষ্টি ছাড়ার প্রথম তিন দিন যেন শরীর আর মনের এক অদ্ভুত টানাপড়েন চলে। হঠাৎ করেই বার বার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করছে বলে মনে হয়, মনমেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, কাজে মন বসে না। অনেকে এমন লক্ষণ দেখলেই নিজের দুর্বল ভাবেন। ফলে কেউ কেউ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক। শরীর দীর্ঘ দিন ধরে যে অভ্যাসে অভ্যস্ত ছিল, সেটিকে ভাঙতে তো সময় লাগবেই! অসম্ভব নয়, খানিক সময়সাপেক্ষ মাত্র। তাই এই সময়টাকে কঠিন লাগতে পারে। নিজের সুবিধার জন্য আপনাকে কেবল জানতে হবে, আপনার শরীরের ভিতরে ঠিক কী ঘটে এই সময়ে।

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

চিনি বা মিষ্টি ত্যাগ করা এত কঠিন হয়ে দাঁড়ায় কেন?

Advertisement

আপনার শরীর নিয়মিত চিনি পেতে অভ্যস্ত। তার পর সেটিকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে শরীর এক রকম ভাবে চিনির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। হঠাৎ করে সেই জোগান থমকে গেলে শরীর যেন শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং তখনই শুরু হয় প্রত্যাহারের প্রতিক্রিয়া। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মস্তিষ্কের অভ্যাস। চিনি খেলে ডোপামিন নামে রাসায়নিক বেরোয় শরীরে, যা আনন্দের অনুভূতি দেয়। হঠাৎ চিনি বন্ধ করলে এই আনন্দের উৎস কমে যায়, ফলে মনখারাপ, বিরক্তি, উদ্বেগ ইত্যাদি অনুভূতি বাড়তে পারে।

এই অভ্যাস সহজে ত্যাগ করার জন্য কী কী পদক্ষেপ করা যায়?

১. চিনি বা মিষ্টির বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলি খুঁজে নিতে পারেন। যেমন, চিনির বদলে মিষ্টি ফল খেতে পারেন। তাতে মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে ফাইবারও পাবে শরীর।

২. জলপানের ঘাটতি থাকলে বার বার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া উচিত।

৩. ঘরোয়া মিষ্টিতে যদি চিনি থাকে, তা খাওয়া যেতে পারে।

৪. ৭০ শতাংশ কোকো পাউডার দিয়ে বানানো ডার্ক চকোলেট খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু পরিমাপের দিকে নজর দিতে হবে। মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছে জাগলে অল্প এক টুকরো ডার্ক চকোলেট সুরাহা হতে পারে।

৫. খাবারের আগে স্যালাড বা স্যুপ খেলে পেট ভর্তি থাকে এবং হঠাৎ মিষ্টির লোভ কমতে পারে। তাই সে ভাবেই বুদ্ধি করে খাওয়ার পাত সাজাতে হবে।

৬. ঘুম কম হলে শরীর বেশি মিষ্টি চাইতে পারে। ভাল ও পর্যাপ্ত ঘুম এই আকাঙ্ক্ষা কমাতে সাহায্য করে।

৭. রোস্ট করা ছোলা, মাখানা, ফল, অঙ্কুরিত ডাল বা বাদাম, এই ধরনের খাবার পেট ভরায় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমায়। এগুলি খেলে মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ খানিক কমতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement