আইসক্রিমের লোভ সামলানোর উপায় কী? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বিশ্ব জুড়ে এখন ‘নো সুগার ক্যাম্পেন’ চলছে। রোজের খাবারের তালিকা থেকে চিনি, ময়দা একেবারে ছেঁটে ফেলছেন অনেকে। চিনির বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে গুড়, মধু বা মেপল সিরাপ। তবে চিনিতে যতই ‘না’ হোক না কেন, মিষ্টি দেখলে যেমন খেতে মন চায়, তেমন আইসক্রিমও। গরমের দিন হোক বা শীতের সময়, আইসক্রিমের খাওয়ার অদম্য বাসনা জেগে উঠতে পারে যখন তখন। চোখের সামনে নানা রং ও স্বাদের আইসক্রিম দেখলে, কারই বা ডায়েটের কথা মনে থাকে! মধ্যরাতে ঘুম ভাঙলে ফ্রিজ খুলে আইসক্রিম টাবের দিকেই চোখ যায়, মনখারাপ হলেও সঙ্গী হতে পারে সেই আইসক্রিমই। এমন ইচ্ছার কারণ কী? এতে লাগাম পরানো কি সম্ভব?
‘আইসক্রিম ক্রেভিং’ কি শুধুই নেশা?
মিষ্টি খেতে ভালবাসেন বলেই যে আইসক্রিম খেতেও ইচ্ছা করবে তা নয়। এর নেপথ্যে কিছু কারণ আছে। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের গবেষণা বলছে, আইসক্রিমে থাকা উচ্চমাত্রার চিনি এবং ফ্যাট মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' নামক একটি হরমোন নিঃসরণ করে, যা সাময়িক ভাবে মন আনন্দে ভরিয়ে তোলে। নেশার মতো কাজ করে। তাই বার বার আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।
তাই বলে ভেবে ফেলবেন না, শুধুই হরমোনের দোষ। সঠিক পুষ্টির অভাবও দায়ী। যেমন, ক্যালশিয়ামের ঘাটতি। আইসক্রিম দুগ্ধজাত পণ্য। অনেক সময় শরীরে ক্যালসিয়াম বা ফরফরাসের ঘাটতি হলে আইসক্রিম বা মিষ্টির মতো খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।
খুব বেশি মনখারাপও এর জন্য দায়ী। মানসিক চাপ বেশি হলে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। এই হরমোন শরীর থেকে শক্তি শুষে নেয়। তখন চিনি দেওয়া খাবার থেকেই শক্তি নিতে চায় শরীর। তা ছাড়া যাঁরা কম ঘুমোন, তাঁদেরও উচ্চ ক্যালোরির খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বেশি হয়। মাছ, মাংস বা ডিম অর্থাৎ, প্রোটিন কম খেলেও মিষ্টি বা চিনি দেওয়া খাবার খাওয়ার ইচ্ছা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়।
বিকল্প উপায় কী?
জল খেতে হবে বেশি। সঙ্গে নানা রকম ফল খেতে হবে। কলা, আঙুর,বেদানা একসঙ্গে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা হলে উপরে নুন ও গোলমরিচ ছড়িয়ে খান। এতে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছা কমবে।
টক দইয়ের সঙ্গে সামান্য মধু ও বেদানা মিশিয়ে দিন। ঠান্ডা করে খান। এতেও মন ভরবে।
দুধ ও চিয়া বীজ দিয়ে পুডিং বানিয়ে নিন। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে এর সঙ্গে নানা রকম ফল মিশিয়ে খান। এই খাবার স্বাস্থ্যকর এবং মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাও কমাবে।
আপেল-দারচিনির স্মুদি খেলেও উপকার পাবেন। একটি মাঝারি মাপের আপেল, ২টি খেজুর, ওট্স, কাঠবাদাম একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। তার পর এক চিমটে দারচিনি মিশিয়ে দিন। এই স্মুদি ‘সুগার ক্রেভিং’ কমাতে ভাল কাজ করবে।