কী ভাবে বানাবেন প্রদাহনাশক চা? ছবি: সংগৃহীত।
চা ছাড়া সকাল, সন্ধ্যা ভাবতেই পারেন না অনেকে। দিনভর কাজের ফাঁকে অনেকেই বার বার চায়ে চুমুক দিতে পছন্দ করেন। দিনে খুব বেশি চা খাওয়া ঠিক না হলেও, চা-ই হতে পারে প্রদাহনাশক পানীয়।
চিকিৎসকেরা জানান, রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ হলে, শরীরে আঘাত লাগলে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে শরীরে প্রদাহ হয়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে শরীর ফুলে যেতে পারে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, বিভিন্ন প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাও কমতে পারে। দৈনন্দিন বদহজম, ক্লান্তির নেপথ্যেও থাকতে পারে প্রদাহজনিত সমস্যা।
তবে ভারতীয় হেঁশেলের কিছু মশলার গুণে ঘরোয়া ভাবে এমন অসুখ প্রতিরোধ করা যায়। জেনে নিন কী ভাবে দৈনন্দিন চায়ে জুড়বে প্রদাহনাশক গুণ।
কালো চা: দৈনন্দিন যে চা পাতার ব্যবহার হয় তাতেও অনেক গুণ রয়েছে। এতে মেলে পলিফেনলসের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। গরম জলে চা-পাতা খানিক থাকলে বা হালকা ফুটিয়ে নিলেই জলে পলিফেনলস নির্গত হয়। এ ছাড়াও এতে মেলে ফ্ল্যাভোনয়েডস, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। দৈনন্দিন কাজ কী ভাবে করা হবে, কোনও কাজে মন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের এই ‘কগনিটিভ ফাংশন’ ঠিক রাখতেও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট জরুরি।
আদা: চায়ের জল ফোটানোর সময় যোগ করুন এক টুকরো থেঁতো করা আদা। এতে মেলে জিনজেরোল, যাতে রয়েছে প্রহাশনাশক উপাদান। আদা-চা শুধু হজমে সহায়ক নয়, বমি ভাবও কমায়।
এলাচ: এক বা দুটো ছোট এলাচ থেঁতো করে দিন। এলাচের গন্ধ খুবই মিষ্টি। তবে এর গুণ আরও বেশি। হজম সহায়ক, পেট ফাঁপা কমায়, প্রদাহ এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে মশলাটি কাজের।
লবঙ্গ: চায়ের জল ফোটানোর সময় মিশিয়ে দিন ২-৩টি লবঙ্গ। এতে থাকে ইউজেনল, যা লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। পেটের জন্যও তা ভাল। লবঙ্গ শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান।
গরম এক কাপ চা নিয়ে বসে, প্রতি চুমুকে মশলার গন্ধ এবং স্বাদ উপভোগ করুন। গলা ব্যথা, সর্দি-জ্বরেও এই চা খুব আরামদায়ক।