Smartphone Effect on Skin

‘প্রিয়’ স্মার্টফোনই বার্ধক্যের কারণ! কী ভাবে তা ত্বকের ক্ষতি করছে? কোন উপায়ে মুক্তি পাওয়া সম্ভব

সর্বক্ষণের সঙ্গী সেই স্মার্টফোনই সন্তর্পণে একটি একটি করে বলিরেখার ভাঁজ ফেলছে ত্বকে। অন্তত তেমনই বলছেন ত্বকের চিকিৎসক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫২
Share:

স্মার্টফোন কতটা ক্ষতি করছে ত্বকের? ছবি : শাটারস্টক।

কাজের ফাঁকে নিজের জন্য কিছুটা সময় পেলে স্মার্টফোনেই চোখ রাখেন এ যুগের অধিকাংশ মানুষ। শুধু অল্পবয়সিরা নন। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বয়স্করাও ইদানীং অবসর বিনোদনের জন্য মুঠোফোনেই ভরসা রাখছেন। আর যাঁরা কর্মরত, তাঁরা সারা দিন ল্যাপটপে কাজ করার পরে বাড়ি ফিরে আবার চোখ রাখছেন স্মার্টফোনের পর্দায়। আর সর্বক্ষণের সঙ্গী সেই স্মার্টফোনই সন্তর্পণে একটি একটি করে বলিরেখার ভাঁজ ফেলছে ত্বকে। অন্তত তেমনই বলছেন ত্বকের চিকিৎসক।

Advertisement

মুম্বই নিবাসী ত্বকের চিকিৎসক রেশমি শেট্টী জানাচ্ছেন, স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের পর্দা থেকে এক ধরনের হাই এনার্জি ব্লু লাইট নির্গত হয়। এই আলো সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির মতো শক্তিশালী না হলেও ত্বকের অনেকখানি গভীরে প্রবেশ করতে পারে। আর এই আলো থেকেই ক্ষতি হয় ত্বকের।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখা এবং টানটান ভাব বজায় রাখার কাজটি মূলত করে দু’টি জরুরি প্রোটিন। একটির নাম কোলাজেন। অন্যটির নাম ইলাস্টেন। স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের পর্দা থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ এতটাই জোরালো আর শক্তিশালী হয় যে, তা ওই দুই প্রোটিনকে ভেঙে ফেলে। রেশমি বলছেন, ‘‘দীর্ঘ ক্ষণ ধরে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকলে ওই ‘ব্লু লাইট’ নানা রকম ক্ষতি করতে থাকে ত্বকের। যার ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে দ্রুত। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডিজিটাল এজিং’।’’

Advertisement

ত্বকের কী কী সমস্যা হতে পারে?

চামড়া ঝুলে পড়া

যেহেতু মোবাইলের ‘ব্লু লাইট’ ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোলাজেন এবং ইলাস্টেন নামের প্রোটিনকে ভেঙে দেয়। ফলে ওই প্রোটিনগুলি ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখার কাজটি করতে পারে না। অকালেই ত্বকে বলিরেখা পড়ে এবং চামড়া ঝুলে যায়।

কালচে ছোপ

চিকিৎসক জানাচ্ছেন, গবেষণায় দেখা গেছে, নীল আলো ত্বকের ‘মেলানোসাইট’ কোষকে উত্তেজিত করে, যা অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি করে। এর ফলে মুখের ত্বকে মেচেতা, কালচে ছোপ পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার মুখের ত্বক কোথাও উজ্জ্বল এবং কোথাও অনুজ্জ্বল দেখাতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বকের রঙ অনুজ্জ্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

টেক নেক

মোবাইল দেখার সময় ঘাড় সাধারণত নিচের দিকে ঝোঁকানো থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে এই অবস্থানে থাকার ফলে ঘাড়ের ত্বকে আড়াআড়ি ভাঁজ বা বলিরেখা পড়তে শুরু করে। দীর্ঘ দিন ধরে একই অভ্যাস জারি থাকলে ওই ভাঁজ স্থায়ী হয়ে যায় এবং দেখতে অনেকটা বয়স্ক মানুষের ঘাড়ের মতো লাগে।

ব্রণ

মোবাইলের এলসিডি পর্দায় অসংখ্য জীবাণু ও ব্যাক্টেরিয়া জমে থাকে। ফোনে কথা বলার সময় যখন তা গালের সংস্পর্শে আসে, তখন সেই ব্যাক্টেরিয়া ত্বকের ঘাম এবং সিবামের সঙ্গে মিশে লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। যা থেকে ব্রণ বা র‍্যাশ হতে পারে।

শুষ্ক ত্বক

স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে এবং নির্জীব হয়ে পড়ে।

চোখের নীচে কালি

স্মার্টফোনের আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চোখের চারপাশের রক্তনালীগুলি প্রসারিত হয়, ফলে চোখের নীচে কালচে ভাব এবং ফোলা ভাব তৈরি হয়।

ত্বকের ক্ষতি এড়াতে কী করতে পারেন?

১। হ্যান্ডস-ফ্রি ব্যবহার করুন। সরাসরি গালে ফোন না লাগিয়ে ইয়ারফোন বা স্পিকার ব্যবহার করে কথা বলুন।

২। ফোন পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন অন্তত একবার স্যানিটাইজ়ারে নরম কাপড় সামান্য ভিজিয়ে ফোনের স্ক্রিন মুছে ফেলুন।

৩। ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার করুন। সব মোবাইলেই নাইট মোড বা আইকমফোর্ট শিল্ড বা ব্লু লাইট ফিল্টার নামের কোনও না কোনও অপশন থাকে। এটি মোবাইল থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মির তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

৪। মোবাইল দেখার সময় সেটি চোখের সমান উচ্চতায় রেখে দেখুন বা ব্যবহার করুন। যাতে ঘাড় ঝুঁকে না পড়ে।

৫। ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। বিশেষ করে যদি মোবাইল বা ল্যাপটপে দীর্ঘ ক্ষণ কাজ করার থাকে তবে অবশ্যই ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ সানস্ক্রিন বা আয়রন অক্সাইড দেওয়া সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। যা ব্লু লাইটের ক্ষতি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়।

৬। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার খান। ভিটামিন সি বা ই যুক্ত খাবার এবং সিরাম ব্যবহার করুন যা ত্বকের কোষ মেরামত করতে সাহায্য করে।

৭। ২০-২০-২০ নিয়মে চলুন। প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরত্বের কোনও কিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখ এবং মুখের পেশি আরাম পাবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement