ইঞ্জেকশনে ভয় থাকে অনেকেরই। কিন্তু অপছন্দ হলেও ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজনে সুচ ফোটাতেই হয়। তবে এ বার সেই ঝক্কি থেকে রেহাই মিলবে। এখন থেকে ইনহেলারেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবিটিস। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ইনসুলিনে ডায়াবিটিস কি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
ইনহেলার ইনসুলিন কী?
ইনসুলিন মূলত এক ধরনের হরমোন, অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। খাবারে থাকা শর্করাকে রক্তে জমা না হয়ে শরীরের কোষে ঢুকতে সাহায্য করে তা। সমস্যা হয় শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ কমে গেলে। তখন ইনসুলিনের অভাবে খাবার থেকে আসা গ্লুকোজ় রক্তে জমা হতে থাকে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। বাইরে থেকে তখন ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন দিয়ে সেই মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ইনসুলিন ইঞ্জেকশনে ওষুধটি তরল আকারে থাকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা সংরক্ষণ করতে হয়। যথাসময়ে ডোজ় মেনে নির্দিষ্ট মাত্রায় নিতে হয়। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট কৌশিক পণ্ডিত বলছেন, “ওরাল ইনসুলিনে ঝক্কি কম। পাউডার আকারে থাকে ওষুধটি, ইনহেলার মারফত নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে শ্বাসের সঙ্গে ওষুধ ফুসফুসে পৌঁছয় এবং সেখান থেকে দ্রুত রক্তে মেশে। ডোজ় নেওয়ার মিনিট কয়েকের মধ্যে কাজ শুরু করে।”
সাধারণ ইনসুলিনের সঙ্গে তফাত
কাজের ক্ষেত্রে সাধারণ ইনসুলিনের সঙ্গে ওরাল ইনসুলিনের তফাত তেমন নেই। তবে ইঞ্জেকশন ইনসুলিনে ডোজ়ের তারতম্য বেশি হয়। তা দীর্ঘমেয়াদে কাজও করে। ওরাল ইনসুলিন তুলনামূলক ভাবে স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করে। জেনারেল ফিজ়িশিয়ান ডা. সুবীর মণ্ডল বলছেন, “সাধারণত খাবার খাওয়ার মিনিট পনেরো আগে তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ইনসুলিন হরমোন শরীরে ঢুকে অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা নিজের কাজ শুরু করে। বিশেষত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার আগে এই ইনসুলিন নিলে উপকার হয়। তা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না।”
ওরাল ইনসুলিনের সুবিধা
সমস্যা কোথায়?
চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া হঠাৎ করে এ ধরনের ওরাল ইনসুলিন শুরু করা ঠিক না। তা ছাড়া, সাধারণ ইনসুলিনের তুলনায় এর দামও অনেকটাই বেশি। তবে এ কথাও ঠিক, ইনহেলার ইনসুলিন ডায়াবিটিস চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে