শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়বে কোন কোন খাবারে? ছবি: ফ্রিপিক।
খেলার ছলেই শিশুদের শারীরিক ও বৌদ্ধিক বিকাশ হয়। পড়াশোনার জন্য বুদ্ধিমত্তার যথাযথ বিকাশ জরুরি। জরুরি, মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম করে তোলা। শিশুর মস্তিষ্কের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশে পুষ্টিকর খাবারও জরুরি।
বয়স অনুযায়ী চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুর খাদ্য নির্ধারণ প্রয়োজন। মোটামুটি ৩ বছর হলেই, শিশু অনেক কিছু খেতে শিখে যায়। ৪-৫ বছরের পর সাধারণত খাওয়া-দাওয়ায় তেমন কোনও বিধিনিষেধ থাকে না। এই বয়সে শিশুরা দ্রুত বেড়ে ওঠে। তাই কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের সঙ্গে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া উচিত। এখনকার বাবা-মায়েরা সন্তানের ওজন বাড়বে ভেবে কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়ান। এতে কিন্তু মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমবে। বুদ্ধির বিকাশ ও উন্নত স্মৃতিশক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেট খাওয়াও সমান জরুরি। ছোট থেকে কোন কোন খাবার খাওয়ালে শিশুর মেধা ও বুদ্ধি বাড়বে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
তৈলাক্ত মাছ
মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অপরিহার্য। এখানে পাওয়া যায় এমন মাছ যেমন রুই, কাতলা, ছোট মাছের মধ্যে মৌরলা খুব উপকারী। এগুলি মস্তিষ্কের কোষগুলিকে সচল রাখে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
ডিম
ডিমে শুধু উচ্চ মাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজই নয়, থাকে কোলাইন। মনে রাখা এবং শেখার জন্য নিউরোট্রান্সমিটারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। কোলাইন নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি। ডিমে থাকা ভিটামিন বি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাদাম ও বীজ
আখরোট, কাঠবাদাম এবং তিসির বীজ ভিটামিন-ই এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে ভরপুর। রোজ নানা রকম বাদাম ও বীজ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়ালে মস্তিষ্কের বিকাশ হবে দ্রুত।
রঙিন সব্জি
টম্যাটো, রাঙা আলু, কুমড়ো কিংবা গাজরের মতো সব্জিতে অন্যান্য জরুরি উপাদানের সঙ্গেই থাকে ক্যারোটিনয়েড জাতীয় উপাদান। এই উপাদানটি একাধিক স্নায়ু ভাল রাখতে সহায়তা করে। বিশেষত চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ক্যারোটিনয়েড অত্যন্ত উপযোগী। পাশাপাশি এই ধরনের সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে।
ডার্ক চকোলেট
ছোটরা চকোলেট খেতে পছন্দ করে। সে ক্ষেত্রে ডার্ক চকোলেট খাওয়ালে উপকার হবে। ডার্ক চকোলেটে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ক্যাফিন-সহ প্রচুর প্রাকৃতিক উদ্দীপক থাকে। এগুলি মস্তিষ্কের জন্য ভাল। এন্ডোরফিনের নিঃসরণকেও উদ্দীপিত করে, যা মেজাজ ভাল রাখতে সাহায্য করে। তাই সাধারণ চকোলেটের বদলে শিশুকে ডার্ক চকোলেট খাওয়াতে পারেন। তবে ডার্ক চকোলেটও নিয়মিত নয়, সপ্তাহে এক বা দু’দিন পরিমিত দেওয়াই ভাল।