টাইফয়েডে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, বাবা-মায়েরা কী কী খেয়াল রাখবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
শীতের সময়ে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো টাইফয়েডের প্রকোপও বেড়েছে। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা বলছে, ২০২৩ সালে দেশে ৪৭ লাখের বেশি টাইফয়েড আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল প্রায় সাড়ে সাত হাজারের। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ছোটদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। টাইফয়েডের জন্য দায়ী সালমোনেল্লা টাইফি ব্যাক্টেরিয়া বার বার জিনগত মিউটেশনের (জিনের রাসায়নিক বদল) কারণে আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। এর নতুন রূপও হানা দিয়েছে বলে খবর। তাই সাবধানে থাকা জরুরি।
টাইফয়েডে কী কী লক্ষণ দেখা দেয় শিশুদের?
টাইফয়েড চট করে বোঝার উপায় নেই। রাস্তার খোলা খাবার, কাটা ফল, কাঁচা স্যালাড বেশি খেলে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তা ছাড়া দূষিত জল থেকেও সংক্রমণ ছড়ায়। কাঁচা শাকসব্জি বা মাছ-মাংস ঠিকমতো না ধুয়ে রান্না করলে, ভাল করে সুসিদ্ধ করা খাবার না খেলে, তা থেকেও ছোটদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
পচা-বাসি খাবার, দূষিত জল থেকে বেশি ছড়ায় সালমোনেল্লা ব্যাক্টেরিয়া। এই ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের ৬-৭ দিন পর থেকে বা এক মাস পরেও রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। টাইফয়েডের প্রাথমিক লক্ষণ হল তীব্র জ্বর। ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মতো জ্বর উঠতে পারে। সাধারণত বিকেল বা রাতের দিকেই জ্বর ঘুরে ঘুরে আসবে।
পেটে অসহ্য ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়েরিয়া হতে পারে।
শিশু খুব ক্লান্ত হয়ে পড়বে, দুর্বলতা বেড়ে যাবে।
অনেক সময় জিভের উপরে সাদাটে আস্তরণ পড়ে যায়। ফলে খাবারের স্বাদ পাওয়া যায় না। খাবার খেলে বা গিলতেও সমস্যা হতে পারে।
সারা ক্ষণ বমি বমি ভাব থাকবে। কিছু খাওয়ার পরেই বমি হয়ে যেতে পারে।
শুকনো কাশি ভোগাবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় শিশু প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছে।
শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, শিশুদের টাইফয়েড হলে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়। ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে শিশুকে।
বাবা-মায়েরা কী কী খেয়াল রাখবেন?
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জন্ডিসের লক্ষণও দেখা দেয়। যদি দেখেন, টানা সাত দিনেও জ্বর কমছে না, পেটখারাপের ওষুধ খেয়েও কাজ হচ্ছে না, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সব সময় জল ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে খাওয়াতে হবে।
বাড়ির শৌচাগার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাইরের শৌচাগার ব্যবহার করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।
রাস্তায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল, লস্যি-শরবত, রোল-চাউমিন ইত্যাদি জাঙ্ক ফুড খেতে দেবেন না শিশুকে। রাস্তার আইসক্রিমও নয়। বাড়িতে রান্না করা কম তেলমশলা দেওয়া হালকা খাবারই খেতে হবে।
খাবার খাওয়ার আগে ভাল করে হাত ধুতে হবে। বাইরে থেকে ফিরলে হাত-মুখ ধুয়ে তবেই খাবার খেতে হবে।
টাইফয়েড থেকে সেরে উঠতে সুষম ও সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে মাসখানেক। বাঁধাকপি, ফুলকপি জাতীয় সব্জি এই সময়ে না খাওয়াই ভাল। হালকা খিচুড়ি, চিকেনের স্ট্যু বা সব্জি দিয়ে স্যুপ খেলে ভাল। টক দই খাওয়াও ভাল। এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমশক্তি বৃদ্ধি করবে। টাটকা ফল খেতে হবে। তবে প্যাকেটজাত ফলের রস শিশুকে খাওয়াবেন না।