Longevity Blueprint of Blue Zone

শতায়ু হতে চান? বিশেষ যাপনের খোঁজ দিয়েছেন গ্রিস, জাপান, ইটালির কয়েকটি অঞ্চলের মানুষ

বেঁচে থাকা শুধু নয়, যাকে বলে বাঁচার মতো বাঁচা। খেয়েদেয়ে, আয়েস করেও দিব্যি পার করা যাবে ৯০ থেকে ১০০ বছর। তবে মানতে হবে কিছু নিয়ম। জীবনযাপনে সেই পদ্ধতিগুলিই অনুসরণ করতে হবে যা জাপান, ইটালি, গ্রিসের মতো দেশের কিছু অঞ্চলের মানুষ করে থাকেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৮:৫৭
Share:

৯০-১০০ বছর সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার রহস্য কী? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তা-ই সয়। এ বিষয়ে কোনও সংশয় নেই। শরীরকে কী কী সইতে হবে, তা নির্ভর করবে জীবনযাপনের পদ্ধতির উপরে। যদি ভাবেন, মদ্যপান কমিয়ে দেবেন, শাকসব্জি বেশি খাবেন, শারীরচর্চা করবেন, তা হলে শরীর সে ভাবেই মানিয়েগুছিয়ে নেবে। কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন, কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন— সবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে নিয়ম মেনে চললেও, খামতি থেকেই যায়। তার ফলেই শরীরে বাসা বাঁধে কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, গ্যাস, অম্বলের মতো সমস্যা। আর তাতেই আয়ুক্ষয় হয়। অথচ বিশ্বে এমন পাঁচটি জায়গা রয়েছে যেখানে মানুষের গড় আয়ু অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সেখানকার মানুষ হেসেখেলে সুস্থ শরীরে কাটিয়ে দিতে পারেন ৯০-১০০ বছর। ওই পাঁচটি দেশের বিশেষ অঞ্চলগুলির ভৌগোলিক অবস্থান বিচার করে সেগুলিকে বলা হয় ‘ব্লু জ়োন’।

Advertisement

জাপানের ওকিনাওয়া, ইটালির সার্ডিনিয়া, কোস্টারিকার নিকোইয়া, গ্রিসের ইকারিয়া এবং ক্যালিফর্নিয়ার লোমা লিন্ডা—এই পাঁচটি জায়গা হল বিশ্বের ব্লু জ়োন। সিঙ্গাপুর এই তালিকায় নবতম সংযোজন। জীবনধারণ সম্পর্কে ভীষণ সচেতন এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। রোজের তালিকা তাঁরা রাখেন নানা ধরনের ফলমূল, তাজা শাকসব্জি। এখানকার মানুষ রান্নায় তেল খান নামমাত্র, শারীরচর্চা করেন বেশি। উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তাকে মনে বাসা বাঁধতেই দেন না। ফলে স্থূলত্ব, ক্যানসার, ডায়াবিটিস, হৃদ্‌রোগের মতো অসুখ খুব কমই হয়।

ব্লু জ়োনের নিয়ম

Advertisement

ব্লু জ়োন ডায়েটে থাকে মূলত ফাইবার সমৃদ্ধ, উদ্ভিদজাত খাবার। নিজেদের দেশের কথা বিবেচনা করলে এহেন খাবারের মধ্যে তালিকায় রাখা যেতে পারে ওট্‌স, ডালিয়া, কিনোয়া, রাগি, নানা রকম বীজ ও বাদাম। বেগুন, বিট, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, বেলপেপার, মিষ্টি আলু ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। ফলের মধ্যে বেরি জাতীয় নানা ফল জাপান, ইতালি, গ্রিসে বেশি খাওয়া হয়। এ দেশে বেরি জাতীয় ফল অবশ্য সহজলভ্য নয়। তার বদলে খাওয়া যেতে পারে বেদানা, লেবু, আপেল ও পেয়ারা।

দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ ধরনের ফল খান ব্লু জ়োনের বাসিন্দারা। যেখানে যখন যে ফল সহজলভ্য তা খেতে হবে। ফলের রস খেতে হলে টাটকা ফল দিয়েই বানিয়ে নিতে হবে। ব্লু জ়োনের বাসিন্দরা কোনও রকম প্যাকেটজাত খাবার বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খান না।

থাইম, রোজ়মেরির মতো মশলা ব্লু জ়োন ডায়েটে ব্যবহার করা হয়। এ দেশে থাইমের বিকল্প হতে পারে তুলসী। মশলার মধ্যে জিরে, জোয়ান, জায়ফল ও জয়িত্রী উপকারী। এগুলি প্রদাহনাশক।

ব্লু জ়োনের রান্নাবান্নায় অলিভ অয়েলের ব্যবহার বেশি হয়। এ দেশে একস্ট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে রান্না তেমন হয় না। সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়িতে তা অসম্ভব। তাই অলিভ অয়েলের বিকল্পে সামান্য ঘি বা রাইস ব্র্যান অয়েল চলতে পারে।

জীবন চলে ধীর গতিতে

গ্রিসের ইকারিয়া দ্বীপে কেউ ইঁদুরদৌড়ে বিশ্বাসী নন। এখানকার মানুষ জীবনকে খুব ধীরস্থির ভাবে উপভোগ করেন। ডিজিটাল মাধ্যম নয়, তাঁরা মুখোমুখি মেলামেশা পছন্দ করেন বেশি। অবসরে হাসি-আড্ডা, গল্পেই মেতে থাকেন। তাই এখানকার মানুষ মানসিক চাপমুক্ত থাকেন, যা তাঁদের আয়ু বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

প্রাচ্যের দীর্ঘায়ুর রহস্য

জাপানের ওকিনাওয়ার বাসিন্দারা এক বিশেষ নিয়ম মেনে চলেন যার নাম ‘হারা হাচি বু’। এটি হল জাপানি দর্শন যেখানে নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসের কথা বলা হয়েছে। পেট আশি শতাংশ ভরে গেলেই খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে, খাওয়া নিয়ে এমনই ভাবনায় বিশ্বাসী জাপানিরা। একেই বলা হয় ‘হারা হাচি বু’।

বাঁচা মানে শুধু খেয়ে-পরে টিকে থাকা নয়। বরং সুস্থ শরীরে, আনন্দের সঙ্গে বেঁচে থাকা। সেই কৌশল শেখায় ইকিগাই। এটিও জাপানের এক বিশেষ পদ্ধতি। এই জীবনদর্শন বাধ্যতামূলক কর্মের কথা বলে না। বরং যা আনন্দ দেয়, জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে, তেমন কাজেই করতে বলে । জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং পছন্দের কাজকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। জীবন সায়াহ্নে এসে কেউ বাগান করেন, কেউ আবার শিল্পচর্চা করেন, কেউ বই পড়েন, কেউ পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে হেসেখেলে জীবন কাটান। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা থেকে নিজেদের অনেক দূরে রাখেন। ব্লু জ়োন-এর বাসিন্দাদের মতে এমন জীবন যাপন করলে শতায়ু হওয়া সম্ভব।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement